গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বেইমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
আজ শনিবার সকালে নিজ গ্রাম ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ মিয়ার দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা রাশেদ খান বলেন, ‘একজন মজলুম নেতা হিসেবে আমি ডা. শফিকুর রহমানকে পছন্দ করতাম। কিন্তু তিনি যে আসলে মুখোশধারী ছিলেন সেটা গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখলাম। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ গণ-অভ্যুত্থানের সাথে সর্ব প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।’
তিনি বলেন, ‘শফিকুর রহমানকে নিয়ে কী বলবো, তিনি নাকি বিএনপির পতন ঘটিয়ে দেবেন। ডা. শফিকুর রহমান তো জীবিতই ছিলেন। তার নেতৃত্বে মগবাজারের তালাটাও খোলা যায়নি। এখন আমি এই কথা-বার্তাগুলো বলি চোখে আঙুল দিয়ে তাদের মোনাফিকির রাজনীতি আমি মানুষের সামনে ধরিয়ে দেই। যেমন তাদের একজন তাদের একজন প্রভাবশালী নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভাই, তিনি বিদেশিদের সাথে বৈঠক করে বললেন যে–আমরা (জামায়াত) শরীয়া আইন কায়েম করবেন এইটা আমরা কোথাও বলি নাই। এমনি তাদের ইশতেহারে কোথাও বলা নাই তারা শরীয়া আইন কায়েম করবে। এই মোনাফেক রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে সাধারণ মানুষের আই ওয়াশ করার জন্য বলছে–আমরা কোরআনের আইন চাই, শরীয়া আইন চাই। এই যে ইসলাম নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ভণ্ডামি করছে। এর আগে নির্বাচনের আগে আমরা তাদের জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা দেখেছি। তারা কী করে নাই? ক্ষমতায় আসার জন্য তারা এমন কোনো অন্যায়, অপরাধ, অপকর্ম, মিথ্যাচার, ভণ্ডামি, মুনাফেকি বাকি ছিল না যে তারা করে নাই।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশের জনগণ তারা বুঝতে পেরেছে যে এই দেশে যতটুকু পরিবর্তন সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে এবং বর্তমানে বাংলাদেশে যদি পরিবর্তন হয় সেইটা হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমি এ দেশের জনগণকে বলব যে, বাংলাদেশের পরিবর্তন যদি হয় সেটা তারেক রহমানের হাত ধরে হবে।’
এ সময় নাহিদ ইসলামের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদ খান, ‘নাহিদ ইসলাম গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি ঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু যে সময়ে জামায়াতের ফাঁদে পা দিয়েছেন, তিনি আসলে তখন বিপথগামী হয়েছেন।’



