ক্লাউড প্রযুক্তিভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্স জানিয়েছে, মেক্সিকোতে আগামী ৫ বছরে তাঁরা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অংকটা ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশটিতে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সেলসফোর্স।
গতকাল বুধবার মেক্সিকো-তে বিশাল অংকের এই বিনিয়োগ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্স।
কীভাবে খরচ করা হবে এই অর্থ? সেলসফোর্স বলছে, এই অর্থ ব্যয়ে মেক্সিকো’র রাজধানী মেক্সিকো সিটি-তে তাঁরা নতুন অফিস খুলবে এবং আমেরিকা মহাদেশজুড়ে গ্রাহকদের সহায়তার জন্য তাঁরা একটি গ্লোবাল ডেলিভারি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবে।
সেলসফোর্স-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক বেনিওফ বলেছেন, ‘এই ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, এআই প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এক বাজার হিসেবে মেক্সিকোর প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
মেক্সিকো দ্রুতই প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাখাতের এক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। আমেরিকার কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় এবং প্রযুক্তিখাতে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করছে দেশটিতে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিনিয়োগ আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে দেশটি।
উইন্ডোজ-নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট গত বছর ঘোষণা করেছে যে, তাঁরা মেক্সিকোতে পরবর্তী ৩ বছরে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মানে।
সেলসফোর্স জানিয়েছে, মেক্সিকো তাঁদের জন্য ব্যবসা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ এক বাজার, যেখানে তাঁদের এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক তালিকায় আছে এক্সকারেট, গ্রুপো বাজার এবং ফেমসা (এফইএমএসএ)-এর মতো প্রতিষ্ঠান।
মেক্সিকো’র অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড বলেছেন, ‘এই বিনিয়োগ শুধু মেক্সিকোর ভেতরেই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না এবং এআই বিষয়ক দক্ষতা বাড়াবে না, বরং এটি এআই এজেন্ট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায় আমাদের দেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কেন্দ্র (কনসালটেন্সি হাব) হিসেবে তুলে ধরবে।’
সেলসফোর্স দ্রুতই তাঁদের ক্লাউড পরিষেবাগুলোতে এআই প্রযুক্তি সমন্বয় করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ২০২৪ সালে এজেন্টফোর্স প্ল্যাটফর্মটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি হচ্ছে তাঁদের এআই এজেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যার ব্যবহারে বিভিন্ন কাজ অটোমেট (স্বয়ংক্রিয়) করা যায় এবং কাজের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলা যায়। এছাড়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের মুনাফার পরিমাণও বাড়াতে চাইছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



