বেঙ্গালুরুর পিচে হালকা সুইং পেয়েছেন বোলাররা। তবে তা এমন কিছু ছিল না, যেটা ইংল্যান্ডকে এভাবে ধসিয়ে দেওয়ার কারণ হতে পারে। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার দুই ফিফটি করা ব্যাটসম্যান সাদিরা সামারাবিক্রমা ও পাথুম নিশঙ্কার ব্যাটিংয়ের সময়ই বোঝা গেছে যে এই পিচে ব্যাটিং খুব একটা কঠিন নয়। ম্যাচের আগে আলোচনা ছিল, এই পিচে ৩০০-ই হতে পারে পার স্কোর। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে আজ ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৫৬ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা, যা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আগে ব্যাট করা দলের মধ্যে যৌথভাবে সর্বনিম্ন স্কোর।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাটিংয়ে নিশঙ্কা ও সামারাবিক্রমার ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের ৮ উইকেটের সহজ জয় এনে দিয়েছে। তবে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয় তো লেখা হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের পরই। লঙ্কানদের সব বোলারই আজ ভালো বোলিং করেছেন, ফিল্ডিংটাও হয়েছে ভালো। তবে এর মধ্যেও ৩ উইকেট নিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন লাহিরু কুমারা। লঙ্কান এই পেসারই তাই পেলেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতি।
অথচ এই লাহিরু কুমারাই আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের কাছে বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন। সেদিন তাঁর ৪ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৪৭ রান নেওয়ার পর আর তাঁকে বোলিংয়েই আনেননি লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস।
অস্ট্রেলিয়ার ঝালটা আজ ইংল্যান্ডের ওপরই যেন মেটালেন লাহিরু কুমারা। ৭ ওভারে ৩৫ রান দিয়েছেন বটে, তবে এর মধ্যেই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার। উইকেট তিনটি কার, সেটা দেখুন - বেন স্টোকস, জস বাটলার ও লিয়াম লিভিংস্টোন। কুমারা ম্যাচসেরা হবেন না তো কে হবেন!
আজ পুরস্কার নিতে গিয়েও তাই অস্ট্রেলিয়ার কথাই তুলে আনলেন কুমারা, 'নিজের পারফরম্যান্সে বেশ খুশি। এমন বোলিং যাতে করতে পারি সে জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের চেয়ে আজ খুব বেশি আলাদা কিছু করিনি, সে দিনটা ছিল একটা বাজে দিন। আমি শুধু পরিশ্রম করে গেছি, আজ সেটা কাজে লেগেছে।'
মাঝের ওভারে ইংল্যান্ডকে আটকানোর পরিকল্পনা কী ছিল, সেটাও জানিয়েছেন কুমারা, 'পরিকল্পনা ছিল মাঝের ওভারগুলোতে লাইন-লেংথে শৃঙ্খলা ধরে রেখে বোলিং করা। সেই পরিকল্পনা মেনে চলেছি, পুরস্কার হিসেবে উইকেটও পেয়েছি।'
শ্রীলঙ্কার জন্য পুরস্কার, ইংল্যান্ডের জন্য তা শাস্তি! বলতে গেলে, তাঁকে আগের দিন পিটিয়ে 'অপরাধ'টা করেছে অস্ট্রেলিয়া, আজ তার শাস্তি লাহিরু কুমারা দিলেন ইংল্যান্ডকে।



