গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৫৫ বলে ১২ চার আর ৮ ছক্কায় ১২০ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেললেন, অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ৪ উইকেটে করল ২৪১ রান। জবাবে রভম্যান পাওয়েলের ৩৬ বলে ৫ চার ৪ ছক্কায় ৬৩ রানের পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে ২০৭ পর্যন্তই যেতে পারল।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রান তাড়ায় ২০০-র বেশি করেও হার ওয়েস্ট ইন্ডিজের, অস্ট্রেলিয়া আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পার্থে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নামবে উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে।
অ্যাডিলেইডে আজ অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বলার মতো গল্প এতটুকুই হতে পারত। যা গল্পগাঁথা শুধু ম্যাক্সওয়েলকে নিয়েই হওয়ার কথা ছিল। ম্যাক্সওয়েলকে নিয়েই গল্পগাঁথা হচ্ছে, হবে। তবে এর পাশাপাশি এমন এক কান্ড ঘটল যা নিয়ে বিতর্ক না জেগে পারে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটসম্যান আলজারি জোসেফ শেষ পর্যন্ত ৫ বলে ২ রান করে অপরাজিত থেকে গেছেন। কিন্তু ১৯তম ওভারে তাঁকে ঘিরেই সেই বিতর্কিত কান্ড। ওভারের তৃতীয় বলে জোসেফ রানআউট হয়েছিলেন, কিন্তু এরপরও অপরাজিত থেকে গেলেন। কীভাবে? কোনো প্রযুক্তিগত ভুল নয়, নিয়মের এক বেড়াজালে। অস্ট্রেলিয়া রানআউটের আবেদন করেনি, পরে রিপ্লেতে জোসেফকে রানআউট দেখেও তাই আউট দেননি আম্পায়ার!
স্পেনসার জনসনের করা ওভারের তৃতীয় বল সেটি। ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার বলতে গেলে নিশ্চিত হয়ে গেছে। ১০ বলে তখনো ৫২ রান দরকার উইন্ডিজের, হাতে উইকেট তখন আর ১টি। এমন অবস্থায় কাভারে ফিল্ডারের হাতে বল রেখেই দ্রুত রান নিতে গেলেন জোসেফ। অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান জেসন হোল্ডার ঠিকঠাকই পৌঁছে গেছেন, ঝামেলা হলো নন-স্ট্রাইক প্রান্তে জোসেফকে নিয়ে। কাভারের ফিল্ডার মিচেল মার্শ বল থ্রো করলেন বোলার জনসনের দিকে, জনসন স্টাম্প উপড়ে দিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দৃশ্যত আবেদন করেনি, আম্পায়ার তাই তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠাননি।
এতটুকুতেই শেষ হলেও হতো। ঝামেলা হলো টিভি রিপ্লে বড় পর্দায় ভেসে ওঠার পর। জনসন ততক্ষণে পরের বল করার জন্য বোলিং মার্কে চলে গেছেন। কিন্তু এদিকে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল, আগের বলে জনসন যখন স্টাম্প উপড়ে দিচ্ছিলেন, জোসেফ তখনো ক্রিজ থেকে বেশ দূরে।
অস্ট্রেলিয়া তা দেখেই উদ্যাপন শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু আম্পায়ার অ্যাবড তখন থামান তাদের। মাইক্রোফোনে তাঁর কথা শোনা গেল, ‘কোনো আপিল হয়নি!’ অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা তা মানতে নারাজ। টিম ডেভিড দাবি করে বসলেন, তিনি আবেদন করেছিলেন! এ নিয়ে কথা কাটাকাটি যখন বাড়ছিল, আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের বললেন, ‘আমরা একটু বাজে পরিস্থিতির দিকে চলে যাচ্ছি। আপনারা খেলা চালিয়ে যান!’ বেঁচে গেলেন জোসেফ।
ক্রিকেটের নিয়ম কী বলে
৩১.১ ধারা অনুযায়ী, ‘আপিল না হলে আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে আউট দিতে পারবেন না।’ এমনও বলা আছে, ‘আইন অনুসারে কোনো ব্যাটসম্যান যদি আউটও হন, কোনো ফিল্ডার আবেদন না করলে দুই আম্পায়ারের কেউ ওই ব্যাটসম্যানকে আউট ঘোষণা করতে পারবেন না। তবে আপিল না হলেও আইনসিদ্ধভাবে আউট কোনো ব্যাটসম্যান নিজ থেকে ক্রিজ ছেড়ে গেলে সেক্ষেত্রে এই নিয়মে তাঁকে আটকানো হবে না।’



