গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্লে-অফ নিয়ে আত্মবিশ্বাস ঝরেছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক শুভাগত হোমের কণ্ঠে। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে এলিমিনেটর জিতে কোয়ালিফায়ার খেলার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তিনি।
কিন্তু আজ সোমবার মিরপুরের সবুজ উইকেটে চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে সে আত্মবিশ্বাসের ছিটে ফোটাও দেখা গেল না। বরিশালের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি চট্টগ্রাম। কাইল মায়ার্স-সাইফউদ্দীন-ম্যাকয়দের বোলিং তোপে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৫ রান পেয়েছে চট্টগ্রাম।
সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেছেন জস ব্রাউন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান এসেছে অধিনায়ক শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে। আর কেউ ২০ রানও করতে পারেননি।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। হারলেই বাদ, এমন সমীকরণের সামনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম ধাক্কা খায় শুরুতেই। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রথম বলে আউট তানজিদ হাসান তামিম (৩ বলে ২)।
তিনে নামা ইমরানুজ্জামানকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন জস ব্রাউন। এক প্রান্তে ব্রাউন হাত চালিয়ে খেললেও অন্যপ্রান্তে ইমরান ছিলেন মন্থর। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওবেদ ম্যাকয়ের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন ২০ রানে থাকা ব্রাউন। কিন্তু মিড অফে থাকা তামিম সহজ ক্যাচটি নিতে ব্যর্থ হন।
ম্যাকয়ের পরের ডেলিভারিতে একই শট খেলে ক্যাচ দেন ইমরান। আগের চার ম্যাচে ১৬ রান করা চট্টগ্রামের এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আজ আউট হয়েছেন ১৩ বলে ৭ রান করে। দুই উইকেট হারানো চট্টগ্রাম পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে তোলে ৪০ রান।
জীবন পেয়েও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাউন। দলের ৫২ রানে ম্যাকয়ের আরেকটি দারুণ ডেলিভারিতে মিলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন। ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৪ রান করেন ব্রাউন।
এরপর চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন কাইল মায়ার্স-তাইজুল ইসলামরা। বরিশালের বোলারদের তোপে তেমন কিছু করতে পারেননি মিডল অর্ডারে নামা টম ব্রুস (১৭ রান) ও সৈকত আলী (১১ রান)। ১৪ ওভারে দলীয় শতরানে পৌঁছায় চট্টগ্রাম। এক প্রান্তে অধিনায়ক শুভাগত চেষ্টা করলেও দলীয় ১১০ রানে মায়ার্সের বলে বোল্ড হন তিনি (১৬ বলে ২৪ রান)।
শুভাগতর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় চট্টগ্রামের বড় সংগ্রহের আশাও। ইংলিশ পেসার জেমস ফুলারের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন রোমারিও শেফার্ড (১৬ বলে ১১ রান)। শেষদিকে আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি।
বরিশালের হয়ে ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট মায়ার্স। ম্যাকয় ও সাইফউদ্দিনও পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। অন্যদিকে একটি উইকেট পেলেও তাইজুল ইসলাম ছিলেন হিসেবি। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২২ রান।



