বল হাতে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। সে হয়তো এমন বলার মতো কিছু নয়। কিন্তু ব্যাট হাতে? কাইল মায়ার্স যেন মায়ায় বেঁধেছেন ফরচুন বরিশালকে! লক্ষ্য যখন ১৫৫, তামিম ইকবালের ২৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে ভিত পেয়েছিল বরিশাল, কিন্তু সে ভিতকে কাজে তো লাগাতে হতো! বরিশালের মায়ার্স আছেন না!
টুর্নামেন্টের চট্টগ্রাম পর্বে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু এরপর একটা ম্যাচও যায়নি, যেখানে ব্যাটে-বলে মায়ার্সের কাছ থেকে কিছু পায়নি বরিশাল! ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন, কোনো ম্যাচেই তাঁর রান ২৫-এর নিচে নয়। তবে এতটুকু বললে কিছুই বলা হয় না আসলে!
একটা ফিফটি, এর বাইরে আজকের ফাইনালসহ তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৪০-এর বেশি রানের ইনিংস। বাকি দুই ম্যাচে রান ২৫ আর ২৮। রানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত টি-টোয়েন্টিতে ইদানিং মুখে মুখে ফেরা শব্দ – ইমপ্যাক্ট। প্রতিটি ইনিংসই যে মায়ার্স খেলেছেন আগ্রাসী ভঙ্গিতে! প্রসঙ্গ যখন ব্যাট হাতে আগ্রাসন, তাঁর যেন কোনো মায়া-দয়া ছিল না!
শুধু কি ব্যাটিং। বল হাতেও ছয় ম্যাচের একটিতেই শুধু উইকেটশূন্য ছিলেন, সব মিলিয়ে উইকেট নিয়েছেন ৯টি। কে জানে, মায়ার্স শুরু থেকে খেললে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারেরও হয়তো আর অন্য কোনো দাবিদার থাকত না!
আজকের ফাইনালই দেখুন না! বল হাতে কুমিল্লার প্রথম উইকেট নিলেন ম্যাচের প্রথম ওভারেই, এরপর রান চেপে রেখেছেন। আর ব্যাটিংয়ে তামিমের গড়ে দেওয়া ভিতের পর ঝড় ওঠালেন মায়ার্স। ৩০ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় মায়ার্সের ৪৬ রানের ইনিংস যত গড়িয়েছে, ম্যাচ থেকে তত বেশি ছিটকে গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ১৭তম ওভারে মায়ার্স শেষ পর্যন্ত যখন আউট হচ্ছেন, বরিশাল শিরোপা থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে!
এমন পারফরম্যান্সের পর ফাইনালের ম্যাচসেরা মায়ার্স ছাড়া আর কে হবেন!



