বিপিএল ফাইনালে হারে না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। প্রথম চারবারে কোনোবারই শিরোপা না জিতে ফেরেনি তারা। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে মুশফিকুর রহিম বলেছিলেন, এটা জানা আছে তাঁদের। তবে এবার ভিন্ন কিছু করে দেখাতে চান তাঁরা।
গতকাল কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিপিএলে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। এই প্রথম বরিশালের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের শিরোপার দেখা পেল। বরিশালের মতোই প্রথমের স্বাদ পেয়েছেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর কুমিল্লাও পেয়েছে প্রথমের স্বাদ, বিপিএলে ফাইনালে হার।
কাল কী এমন ঘটেছে যাতে কুমিল্লার ফাইনালে নিরঙ্কুশ প্রাধান্যের গল্পে ভাটা পড়ল? অনেক কারণই আছে, কোচ সালাউদ্দিন বলেছেন বিদেশিদের ভালো না করা, তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া। চাইলে আরেকটি কারণও খুঁজে নেওয়া যায়। নিজেদের লাকি চার্মকে কাজে না লাগানো! কাল যে প্রথমবারের মতো একাদশে ছিলেন না ইমরুল কায়েস।
বিপিএলে কুমিল্লার প্রথম সাফল্য ২০১৫ সালে। এক বছর বিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধীনের চমকে দিয়েছিল কুমিল্লা। আর ফাইনাল রাঙিয়েছিলেন ইমরুল। মাথা ঠান্ডা রেখে শেষ বলে জয় এনে দেওয়া অলক কাপালি ম্যাচসেরা হলেও কুমিল্লাকে অনায়াস জয়ের ভিত এনে দিয়েছিলেন ইমরুল। মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি করা ইমরুলের ইনিংসটি ৫৩ রানে থামার পরই মূলত বিপদে পড়ে কুমিল্লা।
চার বছর পরের ফাইনালে ইমরুল তাই আর আউট হননি। সেদিন অবশ্য সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ৬১ বলে অবিশ্বাস্য ১৪১ রানের ইনিংসে ১০ চার ও ১১ ছক্কা মেরেছিলেন তামিম। পাঁচে নামা ইমরুলের ২১ বলে ১৭ রানের ইনিংসটি সে তুলনায় দলকে ২০০ পাড় করতে না দেওয়ার দোষে দুষ্ট। কিন্তু ম্যাচ শেষে শিরোপা নিয়ে উদ্যাপনটা সবার আগে ইমরুলই করেছিলেন। কারণ, তামিম থাকার পরও ইমরুলই ছিলেন অধিনায়ক।
২০২২ বিপিএলেও ইমরুলের নেতৃত্বে বিপিএল খেলেছে। ফাইনালে মাত্র ১২ রানে ১২ রান করেছিলেন ইমরুল। তবে তাঁর দল সাকিবের বরিশালকে ঠিকই ১ রানে হারিয়ে দিয়েছিল। গত বিপিএলেও ইমরুলের নেতৃত্বে ফাইনাল খেলেছে কুমিল্লা। এবারও ব্যর্থ ইমরুল। তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে ২ রান করেছিলেন। তবে বিদেশি ক্রিকেটাররা ঠিকই সেবার এনে দিয়েছিলেন শিরোপা।
২০১৭ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা ইমরুলকে এবার অধিনায়ক রাখেনি কুমিল্লা, লিটন দাস পেয়েছেন দায়িত্ব। তবে প্রথম ম্যাচেই ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইমরুল। যদিও তাতে টুর্নামেন্টে ঢাকার একমাত্র জয় আটকানো যায়নি। তবে পরের ম্যাচে তাঁর ফিফটিই দলকে জিতিয়েছে।
কিন্তু এরপর আর মাত্র ৩ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন ইমরুল। তিন ম্যাচে ৩৪ রান করা এই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে দেখা গিয়েছিল। ৫ বলে ৩ রান করে বাঁহাতি স্পিনার প্যাটেলের বলে আউট হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর একাদশে রাখা হয়নি। ফলে গতকালের ফাইনালেও তাঁকে দেখার সম্ভাবনা ছিল না।



