বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রান বন্যার আভাস দিয়েছিল কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ। ডালাসে কানাডার ১৯৪ রান তাড়া করে জিতেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরপর থেকে ভিন্ন গল্পের সূচনা। ব্যাটসম্যানরা ঝড় তোলা তো দূরে থাক, উইকেটে টিকে থাকতেই রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রানখরার দেখা মেলে। বিশ্বকাপের উইকেট নিয়েও শুরু হয় সমালোচনা।
সর্বশেষ আইপিএল জুড়েই রান বন্যার দেখা মিলেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে যে রান করতেই ভুলে গেছেন ব্যাটসম্যানরা। অবশেষে টুর্নামেন্টের ১৭তম ম্যাচে প্রথমবার এসে দুই শ পেরোনো স্কোর দেখল বিশ্বকাপ। বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে গতকাল আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ২০১ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে ইংলিশদের ইনিংস।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ৩৬ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। টানা দুই জয়ে সুপার এইটের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেন মিচেল মার্শরা। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ খেলেও জয়ের খাতা খুলতে পারেনি ইংলিশরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চারে জস বাটলাররা।
বার্বাডোজে গতকাল দুই দল মিলে মোট ৩৬৬ রান করেছে। মজার বিষয়, দুদলের কোনো ব্যাটসম্যান ব্যক্তিগত ফিফটির দেখা পাননি। ব্যক্তিগত ফিফটি ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে বেশি রানের রেকর্ড এটি। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ব্যক্তিগত ফিফটি ছাড়াই ৩২৭ রান হয়েছিল।
গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেড। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫ ওভারেই ৭০ রানে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ওই ওভারের শেষ বলে আউট হন ১৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৯ রান করা ওয়ার্নার। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ টিককে পারেননি হেডও। চার রানের ব্যবধানে জোফরা আর্চারের বলে স্ট্যাম্প ভাঙে হেডের (১৮ বলে ৩৪ রান)।
মিচেল মার্শের (৩৫) সঙ্গে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (২৮) তৃতীয় উইকেট উইকেট জুটিতে ৬৫ রান পায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর স্টয়নিসের ৩০, টিম ডেভিডের ৮ ও ম্যাথু ওয়েডের ১৭ রানের কল্যাণে ২০০ পেরিয়ে যায় ২০২১ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালোই হয়েছিল ইংল্যান্ডের। ফিল সল্ট ও জস বাটলারের উদ্বোধনী জুটিতে ৭ ওভারে ৭৩ রান পায় ইংলিশরা। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে অস্ট্রেলিয়াকে ব্রেকথ্রু এনে দেন অ্যাডাম জাম্পা। প্রথম বলেই বোল্ড করেন ২৩ বলে ৩৭ রান করা ফিল সল্টকে। ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে জস বাটলারকেও (২৮ বলে ৪২ রান) ড্রেসিংরুমে ফেরান জাম্পা।
দুই ওপেনারের বিদায়ে রানের গতি মন্থর হতে থাকে ইংলিশদের। পাশাপাশি উইকেটে কেউ থিতু হতে পারছিলেন না। উইল জ্যাকস (১০) ও জনি বেয়ারস্টোর (৭) বিদায়ের পর আশার প্রদীপ নিভু নিভু হতে থাকে ইংলিশদের। ম্যাক্সওয়েলের ওভারে মঈন আলী (২৫) তিন ছক্কা মারলেও কামিন্সের ওভারে সে ঝড় থেমে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে ইংলিশদের ইনিংস।



