১৩ ম্যাচে ৩৫৯ রান - ফাইনালের আগে এবারের বিপিএলে তামিম ইকবালের ব্যাটিং পরিসংখ্যান এটি, টুর্নামেন্টে বরিশালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বরিশাল অধিনায়কই। তবে শুধু ছন্দে ছিলেন বলেই নয়, আজ বিপিএলের ফাইনালের আগে চিটাগং কিংসের বড় মাথাব্যথা হয়ে তামিম ছিলেন বিপিএল ফাইনালে তাঁর রেকর্ডের কারণেও।
আজ বিপিএল ফাইনালে চিটাগং কিংসের ১৯৪ রানের জবাবে শেষ পর্যন্ত দারুণ উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটি ৩ উইকেট আর ৩ বল হাতে রেখে জিতে গেছে তামিম ইকবালের বরিশাল। রেকর্ডও হয়ে গেছে তাতে, বিপিএল ফাইনালে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড যে আর নেই। বরিশালের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় অবদান তামিমেরই – ওপেনিংয়ে নেমে তাঁর ২৯ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় ৫৪ রানই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে।
তা তামিম যে এমন খেলবেন, তা কি একেবারে অননুমেয় ছিল? শুধু ফর্মে ছিলেন বলেই নয়, আগে যে দুটি বিপিএল ফাইনাল খেলেছেন তামিম – সেগুলোর রেকর্ড দেখলেও যে মনে হতে পারে, তামিমের তো এমনই খেলার কথা! তামিম তেমনই খেলেছেন।
বিপিএল ফাইনালের রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, আজকের আগেই বিপিএল ফাইনালে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটি ছিল তামিমের। আগে যে দুই ফাইনাল খেলেছেন, তাতেই তামিমের রান ছিল ১৮০। তালিকায় দুই নম্বরে থাকা ক্রিস গেইলের চেয়ে ১ রান বেশি নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন তামিম, গেইলও ফাইনালে খেলেছেন ২ বার।
সেই দুই ফাইনালের মধ্যে একটি তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সেরা ইনিংসগুলোরই একটি। ২০১৯ বিপিএল ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৬১ বলে ১৪১ রান করে অপরাজিত ছিলেন সে সময়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে খেলা তামিম। সেবার শিরোপা যায় কুমিল্লায়। এরপর গত বছর কুমিল্লার বিপক্ষেই বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে নেমে ২৬ বলে ৩৯ রান করেছিলেন, শিরোপা জেতে বরিশাল।
শুধু কী রান? বিপিএল ফাইনালের রেকর্ডবইয়ে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইকরেটও তো তামিমেরই ছিল – ২০৬.৮৯! এমনকি ক্রিস গেইলেরও বিপিএল ফাইনালে স্ট্রাইকরেট ছিল ১৭৯!
সেই তামিম আজ ১৮৬.২০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসে শুরুতেই সুর বেঁধে দিয়েছেন বরিশালের ইনিংসের। লক্ষ্য যখন দুই শ ছুঁইছুঁই, এর চেয়ে ভালো শুরু আর হতে পারত না বরিশালের জন্য। আরেক ওপেনার তাওহীদ হৃদয় মূলত তামিমকেই বারবার স্ট্রাইকে এনে দিচ্ছিলেন, আর স্ট্রাইকে গিয়ে তামিম বারবার তা-ই করছিলেন যা তাঁর করার কথা – স্ট্রাইক! পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষ হতে হতেই তামিমের রান হয়ে যায় ২১ বলে ৩৯, আর সে সুবাদে পাওয়ার প্লে-তে বরিশাল পেয়ে যায় ৫৭ রান।
২৪ বলে ফিফটিও পেয়ে গেলেন তামিম, এবারের বিপিএলে যা তাঁর দ্রুততম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে নবম ওভারের প্রথম বলে তামিম যখন আউট হচ্ছেন, ততক্ষণেই বরিশালের রান হয়ে গেছে ৭৫। এতটা ভালো শুরু হয়তো কল্পনাতেও ছিল না বরিশালের!
সেখান থেকে কাইল মায়ার্সের ২৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস বরিশালকে লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছে। মাঝে কিছুটা পথ হারালেও শেষদিকে রিশাদ হোসেনের ৬ বলে ১৮ রানের ক্যামিও শেষ পর্যন্ত বিপিএল ট্রফিটা বরিশালের লঞ্চেই উঠিয়ে দিয়েছে।



