আইএল টি-টোয়েন্টিতে গতকাল শুক্রবার মুখোমুখি হয়েছিল দুবাই ক্যাপিটালস ও শারজা ওয়ারিয়র্স। ম্যাচটা ছিল দুই বাংলাদেশি তারকা মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের মুখোমুখি লড়াইও। সে লড়াইয়ে ৪০ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন। অন্যদিকে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ১৩ রানে ২ উইকেট।
উইকেট সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও তাসকিনের তুলনায় নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন মোস্তাফিজ। আর দিন শেষে ম্যাচটাও বড় ব্যবধানে জিতেছে মোস্তাফিজের দুবাই ক্যাপিটালস।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮০ রান তুলেছিল দুবাই। জবাবে ইনিংসে ৩ ওভার বাকি থাকতে ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় শারজা। তাতে ৬৩ রানের বড় জয় পায় মোস্তাফিজের দল।
এ জয়ে ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে দুবাই। আর ৬ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে শারজা।
গতকাল টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীরকে হারায় দুবাই ক্যাপিটালস। তবে আরেক ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালের ঝড়ে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে দুবাই। আতাল ৪৪ বলে ৬৬ রান করে তাসকিনের বলে আউট হন।
এছাড়া জর্ডান কক্সের ১৯ বলে ২৮ ও শেষ দিকে মোহাম্মদ নাবীর ১৯ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ক্যামিওতে ১৮০ রানের সংগ্রহ পায় দুবাই।
তাসকিন আহমেদ প্রথম বল তুলে নেন দুবাই ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে। নিজের প্রথম দুই বলেই চার হজম করা তাসকিন ওই ওভারে দেন ১২ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল করতে গিয়ে আবারও দুই চার হজম করেন বাংলাদেশি পেসার। তবে ওই ওভারের শেষ বলে ফেরান জর্ডান কক্সকে।
লম্বা বিরতির পর ১৮তম ওভারে আবারও বোলিংয়ে ফেরেন তাসকিন। এবার প্রথম বলে তাসকিনকে ছক্কা মারেন আতাল। পরের বলেই আতালকে আউট করে প্রতিশোধ দেন ডানহাতি এ পেসার। আর ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে দাসুন শানাকার উইকেট শিকার করেন তাসকিন। তাতে ৪ ওভারের বোলিং কোটা শেষে তাসকিনের নামের পাশে ৪০ রানে ৩ উইকেট। আর দুবাই ততক্ষণে বড় সংগ্রহ তুলে ফেলেছে।
রান তাড়ায় নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি শারজা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ আউট হন ওপেনার জনসন চার্লস। বাঁহাতি পেসারের অফ কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে সালামখিলের হাতে ক্যাচে পরিণত হন চার্লস। ওই ওভারে ৮ রান দেন মোস্তাফিজ।
এরপর মোস্তাফিজ বোলিংয়ে ফেরেন ইনিংসের ১৬তম ওভারে। ততক্ষণে ম্যাচ জয়ের ক্ষণ গুনছে দুবাই। শারজার স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ১০৮ রান। এমন পরিস্থিতিতে ওভারের পঞ্চম বলে আদিল রশিদকে ফেরান মোস্তাফিজ। আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলে রিভিউ নেয় দুবাই। যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, কট বিহাইন্ড হয়েছেন রশিদ।
মোস্তাফিজ আর বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। তাতে ২ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মোস্তাফিজকে। আর পরের ওভারে ওয়ারিয়র্সের বাকি দুই উইকেট নিয়ে দুবাইয়ের জয় নিশ্চিত করেন নাবী। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি বল হাতে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেওয়া নাবীর হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।



