পারভেজ হোসেন ইমন দারুণ ঝড় তুলে শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৪ চার ৫ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকলেন। সিলেট টাইটানসের রান ২০ ওভার শেষে দাঁড়াল ১৯০। বেশ চ্যালেঞ্জিং বটে। চ্যালেঞ্জটা একেবারে অনায়াসে জিতে গেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সেটা অন্তত ইনিংস শেষে বাকি থাকা বলের পরিমাণ দেখে বলার উপায় নেই। ২ বল হাতে রেখে জিতেছে রাজশাহী। কিন্তু সে জয়টা যে ৮ উইকেটে এসেছে, এর কারণ বিপিএলে আজ প্রথম দিনেই সিলেটে ব্যাট হাতে নাজমুল হোসেন শান্তর অসাধারণ সেঞ্চুরি!
শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ১০ চার ৫ ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত থাকলেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ৭১ বলে ১৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাঁর সঙ্গী মুশফিকুর রহিমও ছেড়ে কথা বলেননি, ৩১ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসে গতি ঠিক রাখার পাশাপাশি অন্য প্রান্তে থাকা শান্তকে নির্ভার ব্যাটিংয়ের লাইসেন্সও জুগিয়েছেন। ৬২ রানে ২ উইকেট হারানো রাজশাহীকে এ দুজনের কল্যাণেই আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
তানজিদ হাসান তামিম (৮ বলে ১০) দ্রুতই ফিরে গেছেন। সাহিবজাদা ফারহানও (২০) বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে শান্ত ওয়ান ডাউনে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। মজার ব্যাপার হলো, ইনিংসের শুরুর দিকে বেশ কয়েকবার আউটসাইড এজে চার পেয়ে যাওয়া শান্তর ইনিংস যত গড়িয়েছে, তত গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শটের নিয়ন্ত্রণও।
ফিফটির পথে শান্ত নিজের নামের সঙ্গে ইনিংসের মিলই রেখেছেন বলতে হয়, ফিফটিতে পৌঁছেছেন ৩৫ বলে। তখন পর্যন্ত তাঁর ব্যাটে ছক্কা এসেছে মাত্র একটি। ১২তম ওভারে রুয়েল মিয়াকে টানা দুই চারে ফিফটিতে পৌঁছানোর পর শান্ত ‘গিয়ার শিফট’টা এমনভাবেই করলেন ইনিংসে যে, সিলেট আর পাত্তা পেল না। নাসুমকে টানা দুই বলে একটি করে চার ও ছক্কা মারলেন ১৩তম ওভারে, ১৪তম ওভারে মিরাজকে টানা দুই বলে একটি করে ছক্কা ও চার, পরের ওভারে খালেদকে ছক্কা। শটগুলোও দেখার মতো! চোখের পলকে পঞ্চাশের ঘর থেকে আশির কাছে পৌঁছে যান শান্ত।
শেষ পর্যন্ত ২০তম ওভারের প্রথম বলে রুয়েলের বলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি যখন হলো, রাজশাহীর জয় ততক্ষণে নিশ্চিতই হয়ে গেছে।



