গতকাল শুক্রবার পর্দা উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম সংস্করণের। সিলেটে গতকাল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা পেয়েছে ‘কমিটির দল’ চট্টগ্রাম রয়্যালস।
তা চট্টগ্রামকে কমিটির দল বলা হচ্ছে কেন? বিপিএল শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই চট্টগ্রামের মালিকানা নিয়ে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। শেষমেষ টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন আর্থিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে চট্টগ্রামের মালিকানা ছেড়ে দেয় মালিকপক্ষ। এতে অনেকটা বাধ্য হয়েই দলটির দায়িত্ব নেয় বিসিবি। এরপর থেকে অনেকেই মজার ছলে চট্টগ্রামকে কমিটির দল বলতে থাকে!
মাঠের বাইরের নানান ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে গতকাল অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিল চট্টগ্রাম। টস জিতে আগে ব্যাটিং করে মির্জা তাহির বাইগের ৮০ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৪ রানের সংগ্রহ পায় দলটি। জবাবে শরীফুল ইসলাম-শেখ মেহেদীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী।
ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী জানিয়েছেন, মাঠের বাইরের নানান ঘটনায় পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হলেও প্রথম ম্যাচ স্বস্তি দিয়েছে তাঁকে। তবে মালিকানা নিয়ে টুর্নামেন্টের আগে যা হয়েছে, এমনটা কখনো দেখেননি বলেও জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শেখ মেহেদী বলেছেন, ‘ব্যবস্থাপনা যদি ভালো না থাকে, ক্রিকেটাররা তো একটু… আমরা যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, এই পরিবেশটা তো… মূলত এরকম পরিবেশ কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আমি পাইনি। আমার জন্য কঠিন ছিল।’
পরিস্থিতি কঠিন হলেও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে গেলে মনোযোগটা ক্রিকেটেই থাকে, সেটাই জানিয়েছেন মেহেদী। চট্টগ্রাম অধিনায়কের ভাষায়, ‘পরিস্থিতি যেমনই হোক, খেলার ভেতর ঢুকলে তো সবটুকু প্রচেষ্টা থাকবে খেলা নিয়ে। এরকমই ছিল আমাদের। চেষ্টা ছিল, মাঠে ঢুকলে যেন আমরা সবাই যথাযথ তাড়না দেখাতে পারি। যতই ঝড়-তুফান যাক না কেন, খেলা তো মাঠের ভেতরে। আপনি যখন ২২ গজে ঢুকবেন, মানসিকতা তখন খেলার জন্যই থাকবে।’
মালিকানা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও এর মধ্যেই ইতিবাচকতা খুঁজে নিচ্ছেন মেহেদী, ‘এটা একটু কঠিন ছিল, তবে যেটা বললাম, দিনশেষে ক্রিকেট খেলা। আমরা তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিয়েছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ক্রিকেটার হিসেবে স্বস্তির একটা ব্যাপার থাকে। এটা খেলার ভেতরে (টুর্নামেন্ট চলার সময়) হতে পারত। খেলা শুরুর আগেই সমাধান হওয়ায় ক্রিকেটারদের জন্য ভালো হয়েছে। খেলার মাঝপথে এমন একটি দুর্ঘটনা হতে পারত। খেলা শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেছে এটা। সবাই এখন ফ্রেশ আছে। কারও ওপর চাপ নেই, মানসিকভাবে ফ্রি আছে।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে মেহেদীর কাছে প্রশ্ন গেল, ‘কমিটির টিম, এটা শুনতে কেমন লাগে?’ প্রশ্ন শুনে কিছুটা ভেবে হাসতে হাসতে চট্টগ্রাম অধিনায়ক বলেন, ‘দেখুন, কমিটির দল, এটা তো আমরা এলাকাগত (ব্যাপার) জানি। এখানে কমিটির দল কীভাবে বলব (হাসি)… খেলা সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে, কমিটির দল থাকলেও লাভ নেই আসলে…’



