মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ যে জিততে যাচ্ছে, সেটার ধারণা মিলেছিল দিনের প্রথম সেশন শেষেই। মধ্যাহ্নভোজের মিনিট বিশেক আগে নাজমুল হোসেন শান্ত যখন দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা দিলেন, তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৯ উইকেটে ২৪০ রান। আর পাকিস্তানের লক্ষ্য ২৬৮ রানের।
বাংলাদেশকে তখন আশার আলো দেখাচ্ছিল মিরপুরের অতীত পরিসংখ্যান। রেকর্ড বলছে, এই ভেন্যুতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। আজ জিততে হলে আগের সেই রেকর্ডকে অতীত বানাতে হতো পাকিস্তানকে।
কিন্তু সেটা করতে পারেননি সালমান আলী আঘা-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। নাহিদ রানার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৬৩ রানে। তাতে ১০৪ রানের বিশাল জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন শান্ত-লিটনরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের ধারাও অব্যাহত রাখল বাংলাদেশ। এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ তিন টেস্টেই জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ।
অথচ ২০২৪ সালের পাকিস্তান সফরের আগ পর্যন্ত গল্পটা ছিল একেবারে ভিন্ন। সেই সময় পর্যন্ত দুদলের খেলা ১৩ টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল এক ম্যাচ ড্র করা। বিপরীতে ১২টি ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সব হিসেব উল্টে যায় ২০২৪ সালে। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া দুই ম্যাচেই জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঘরের মাঠেও জয় উদযাপন বজায় রাখলেন শান্তরা।
তো জয় উদযাপনের দিনে বাংলাদেশের কি আক্ষেপ নেই? আক্ষেপ বলতে আরেকবার দিনের প্রথম সেশনে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৭ রানে আউট হওয়া। তাতে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা তৃতীয়বারের মতো গড়া হলো না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের।
অন্যদিকে রান তাড়ায় পাকিস্তানকে তেমন সুযোগই দেয়নি বাংলাদেশ। বিশেষ করে নাহিদ রানা-তাসকিন আহমেদদের গতির সামনে নাজেহাল হয়ে পড়েন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।
শুধু অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল বাদে আর কেউ তেমন দাঁড়াতেই পারেননি। ফজল প্রথম ইনিংসের (৬০) মতো দ্বিতীয় ইনিংসেরও (৬৬) ফিফটি আদায় করেছেন। পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন অধিনায়ক সালমান আগা। এর বাইরে আর কেউ ২০ রানও করতে পারেননি।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। এর বাইরে তাসকিন ও তাইজুল দুটি করে এবং মিরাজ একটি উইকেট নিয়েছেন।



