কেন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত?

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

আবারও সেই পুরোনো নাটক! চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত, অথচ হাতে নেই ট্রফি। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপ জিতেও খালি হাতেই উদ্‌যাপন করতে হলো হারমানপ্রীত কৌরদের।

এক বছর আগে ছেলেদের এশিয়া কাপেও দেখা গিয়েছিল ঠিক একই দৃশ্য। চ্যাম্পিয়ন ভারত, কিন্তু ট্রফি নেই হাতে। আর দুবারই এই নাটকের কেন্দ্রে একজন— মহসীন নাকভি।

কিন্তু কেন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি নয় ভারত? কেন এশিয়ার সেরা হয়েও ট্রফি ছাড়াই উদ্‌যাপন করতে হচ্ছে তাদের?

এটা কি স্রেফ একটা ক্রিকেটীয় প্রতিবাদ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে দু’দেশের মারাত্মক এক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈরীতার ইতিহাস?

 

দুবাইয়ের ফাইনালের পর কী ঘটেছিল?

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই শুরু হলো আসল হাই-ভোল্টেজ ড্রামা!

সাধারণত এ ধরনের টুর্নামেন্টে ম্যাচ শেষের ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী শুরু হয়। সেখানে কেটে গেল টানা ৫০ মিনিট! কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার নাম নেই। গ্যালারির দর্শক থেকে শুরু করে ব্রডকাস্টার— সবাই হতবাক। ব্যাকস্টেজ তখন উত্তপ্ত! 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হলো পুরস্কার বিতরণী। মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট মহসীন নাকভি। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর কিংবা ভারত দলের কোনো সদস্য মঞ্চের ধারেকাছেও যাচ্ছেন না।

ভারত দল থেকে প্রস্তাব গেলো— এসিসির সহসভাপতি খালিদ আল জারুনির হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবে। কিন্তু নাকভিও নাছোড়বান্দা! তিনি নিজ হতেই ট্রফি দেবেন। দুপক্ষের এমন অনড় অবস্থানে কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষমেষ নাটকীয়ভাবে অনুষ্ঠান শেষ করে দেওয়া হয়! রানার্সআপের প্রাইজমানি নিয়ে শ্রীলঙ্কা মাঠ ছাড়ে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন ভারতের হাতে ওঠেনি কোনো পদক বা ট্রফি। 

 

ব্যাকস্টোরি ও রাজনীতির প্রেক্ষাপট

কিন্তু এই অদ্ভুতুরে বয়কটের শুরু কোথায়? এর উত্তর কিন্তু ক্রিকেট মাঠে নয়, এর শিকড় অনেক গভীরে! আর সে জন্য ফিরে যেতে হবে পেছনে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা এবং দুই দেশের বৈরী রাজণৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। সেই সম্পর্ক আরও বিষিয়ে ওঠে ২০২৫ সালের এপ্রিলে।

কাশ্মীরের পেহেলগামে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা বদলে দেয় সব হিসাব-নিকাশ। ভারত এর জবাবে শুরু করে 'অপারেশন সিঁদুর' নামের এক সামরিক অভিযান । এতে দুই দেশের সম্পর্ক পৌঁছায় একেবারে তলানীতে।

এর সরাসরি ধাক্কা এসে পড়ে ক্রিকেটের ব্যাটে-বলে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, এরপর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা হলেও তাঁদের সঙ্গে টস বা ম্যাচ শেষে কোনো করমর্দন বা ‘হ্যান্ডশেক’ করবে না ভারত। ২০২৫ এর এশিয়া কাপে যার চূড়ান্ত নিদর্শনের দেখা মেলে। মুখোমুখি তিন ম্যাচের একটিতেও ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হাত মেলাননি।

আর এই রেষারেষির চূড়ান্ত বিষ্ফোরণ ঘটে সেবারের ফাইনাল শেষে। ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও, সেবার শিরোপা ছাড়াই উদযাপন করেছিলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভরা। আর এক বছর পর, হারমানপ্রীত কৌরের দল হুবহু সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করলো!

আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে একটা নাম— মহসীন নাকভি।

 

মহসীন নাকভি কে? তাঁকে নিয়ে ভারতের সমস্যাটা কোথায়?

মহসিন নাকভি শুধুই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান নন। এর বাইরে তিনি আরও দুটি পরিচয় বহন করেন। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, একইসঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! আর নাকভির এই পরিচয়টাই শিরোপা নিয়ে দুপক্ষের সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ। মানে, ক্রিকেটের মঞ্চে যিনি ট্রফি দিচ্ছেন, রাজনীতির মঞ্চে তিনিই পাকিস্তান সরকারের একজন প্রথম সারির নীতিনির্ধারক।

এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ভাষ্য একদম পরিষ্কার— রাজনীতি এবং জাতীয় সুরক্ষা যেখানে জড়িত, সেখানে প্রতিপক্ষ দেশের সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্বের হাত থেকে ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয়! বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ভাষায়, ‘তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’

 

পর্দায় খেলা, নেপথ্যে ‘মিলিয়ন ডলার’ ক্রিকেট বিজনেস?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা ওঠে— দুই দেশের মধ্যে যখন এত বৈরিতা, সংঘাত আর উত্তেজনা, তাহলে ভারত কেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট খেলে? কেন পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করে না?

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এর পেছনের আইনি কারণ তুলে ধরে জানিয়েছেন— ভারত সরকারের কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী আইসিসি বা এসিসির মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে তারা সব দেশের বিপক্ষেই খেলবে।

কিন্তু এর পেছনে কি কেবলই সরকারী নীতি, নাকি লুকিয়ে আছে অন্য হিসাব-নিকাশ? উত্তর হলো— মিলিয়ন ডলারের বিশ্ব ক্রিকেট বাণিজ্য!

বাস্তবতা হলো, বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতির বড় অংশ আসে এই একটিমাত্র ম্যাচে! আইসিসি বা এসিসির সম্প্রচারস্বত্ব ও কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপনী বাজার মূলত নির্ভর করে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের ওপর। ব্রডকাস্টাররা কোটি কোটি টাকা ঢালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বিজ্ঞাপনী স্লটের জন্য।

তাই সম্পূর্ণ ম্যাচ বয়কট করলে বিসিসিআই ও আইসিসিকে পড়তে হতো শত শত মিলিয়ন ডলারের আইনি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে। ভারত মাঠের খেলা খেলে বিজ্ঞাপনী রাজস্ব ও বৈশ্বিক সম্প্রচারের কোটি কোটি ডলারের বাজার ঠিকই বুঝে নিচ্ছে। কিন্তু ট্রফি আর হ্যান্ডশেক প্রত্যাখ্যান করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট রাখছে! অর্থাৎ, বাণিজ্য বজায় থাকছে পূর্ণমাত্রায়, আর কূটনীতির টেবিলে দেখানো হচ্ছে কোনো আপস না করার কঠোর মনোভাব!

 

ক্রিকেট নাকি কূটনৈতিক যুদ্ধ ক্ষেত্র?

খেলাধুলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখার কথা নীতিবাক্যে যতই বলা হোক না কেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ যে মাঠেও গলছে না, এই ট্রফি বয়কট তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ভারত ট্রফি না নিয়েই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করছে, বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে— পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলব, কিন্তু নীতির প্রশ্নে আপস করব না!

এটা একদিকে যেমন ক্রিকেট ডিপ্লোমেসির চরম পরাজয়, অন্যদিকে ভারতের কড়া রাজনৈতিক বার্তা। ট্রফিটি হয়তো দুবাইয়ের ড্রেসিংরুমের কোনো কোণে বা এসিসির দপ্তরে পড়ে রইলো, কিন্তু ভারতের কাছে ট্রফির চেয়েও বড় হয়ে উঠলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান!

ভারতের চ্যাম্পিয়ন শিরোপা না নেওয়ার নেপথ্যে কী? সেই পুরোনো কাহিনি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট মহসীন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না ভারত। কারণটা সহজেই অনুমেয়। নাকভি একই সঙ্গে ভারতের...
অবশ্য ম্যাচের শুরুতে (৪র্থ মিনিটে) সারিডজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ন্যাশভিলে। তবে ১৯ মিনিটে মেসির দারুণ এক কর্নারে নাশভিলের রিড বেকার-হোয়াইটিংয়ের মাথায় লেগে বল নিজেদের জালে জড়ায়। মেসির কর্নারে আত্মঘাতী...
এশিয়া কাপে এবারো ভারত বাধা পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে হারমানপ্রিতের দলের কাছে আত্মসমর্পন, দুবাইয়ে মাঠে হৃদয়ভাঙ্গা হতাশা শেষ হলো বাংলাদেশের মিশন। 
ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি কোনটা? বিশ্বকাপ না জিতেও যে ট্রফিটা একজন ফুটবলারকে রাতারাতি ইতিহাসের পাতায় তুলে দেয়, সেটা বালন দ’র। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের বালন...
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার। প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’ সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে।
আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন, আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি। কীভাবে হবে নির্বাচন? প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী লাগবে? দলীয় প্রতীক কি...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু'র সগ্রহশালা থেকে এক শিক্ষার্থী পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডাকসু'র মুক্তিযুদ্ধ ও...
লোডিং...

এলাকার খবর