লিওনেল মেসি, নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো- সেরার দৌড়ে কে এগিয়ে? দীর্ঘ সময়জুড়েই এমন প্রশ্নে বিভক্ত ফুটবল অঙ্গন। অনেকের দৃষ্টিতে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে রোনালদোর সঙ্গে নিজের ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়েছেন মেসি। ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সাফল্যও কথা বলে আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়কের হয়ে।
তবে একটা জায়গায় মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো। ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা মৌসুমের স্বীকৃতি পেয়েছে তাঁর ২০০৮ সালের অর্জন। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভোটে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ভোটে ২০০৮ সালে রোনালদোর ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমটি সেরা নির্বাচিত হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পুরস্কারে ভোট দিতে অর্থ খরচ করতে হয়েছে সমর্থকদের। প্রতি ভোটের জন্য খরচ হয়েছে ১ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩৮ টাকা। সেখানেই শেষ নয়, অর্থ খরচ করে একই ব্যক্তি একই মৌসুমের পক্ষে একাধিকবার ভোট দিতে পেরেছেন।
তা মেসি যেখানে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, সেখানে রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম কীভাবে সর্বকালের সেরা নির্বাচিত হলো? মূলত ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এই ভোটের উদ্দেশ্য ছিল, পুরস্কারটির ইতিহাসে বিজয়ীদের কোন মৌসুমটি সেরা, তা নির্ধারণ করা।
অবশ্য প্রার্থী তালিকাটি সীমিত রাখা হয়েছিল। ফ্রান্স ফুটবল ১০ জনের নাম মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২০০৮ সালে রোনালদোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভোটাররা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। ওই বছর রেকর্ড ৯১ গোল করেছিলেন মেসি।
মজার বিষয়, শুধু শীর্ষ দুই স্থানেই নয়, তালিকার প্রথম ১২টি স্থানই দখল করেছেন মেসি ও রোনালদো—নিজেদের বিভিন্ন মৌসুমের পারফরম্যান্সের সুবাদে। অর্থাৎ ভোটে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছেন এই দুই মহাতারকা। তাঁদের বাইরে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের জায়গা হয়েছে ১৩তম স্থানে। সেখানে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও।
ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ। ৫ হাজারের বেশি সমর্থক একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন ১০ থেকে ২৬ বার, ৩০০ জন ৫ থেকে ৯ বার এবং ৪ হাজার ৬৬৫ জন ২ থেকে ৪ বার ভোট দিয়েছেন।


