চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে তাদের ধারেকাছে এমনিতেও লেউ ছিল না। গতকাল রাতে ব্যবধানটা আরেকটু বাড়িয়ে নিল রেয়াল মাদ্রিদ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৫তম চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে মাদ্রিদ। শিরোপা জেতায় তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের চ্যাম্পিয়নস লিগ? সাত!
এই ১৫ শিরোপার তিনটিই এসেছে কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে। তিন বছরে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দেওয়ার পথে অনেক চড়াই উতরাই পেরোতে হয়েছে তাঁকে। তবু গতকাল যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে, সেটা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।
গতকাল প্রথমার্ধে প্রশ্নাতীতভাবে সেরা দল ছিল ডর্টমুন্ড। অন্তত চারটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল তারা। দুবার গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি করিম আদেয়েমি। একবার ফুলক্রুগের শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও প্রতি আক্রমণে ভয় দেখাচ্ছিল ডর্টমুন্ডই। ৭৪ ও ৮৩ মিনিটে কারভাহাল ও ভিনিসিয়ুসের গোলে উদ্ধার পায় মাদ্রিদ। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন ডর্টমুন্ড তাঁকে চমকে দিয়েছে, ‘আমি কখনো এতে অভ্যস্ত হতে পারি না (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়), কারণ এটা কঠিন, খুব কঠিন ছিল, অপ্রত্যাশিত কঠিন। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেছি, বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, কম বল হারিয়েছি… স্বপ্নযাত্রা চলছে আমাদের।’
প্রথমার্ধে ডর্টমুন্ডের এমন দাপটের পেছনে নিজেদের দায়ও দেখছেন আনচেলত্তি, ‘প্রথমার্ধে আমরা একটু অলস ছিলাম, বল হারিয়েছি এবং ওরা যেমন চেয়েছে, সেভাবে খেলেছে।’
৭৪ মিনিটে হেডে গোল করা ডিফেন্ডার কারভাহালও স্বীকার করেছেন তাঁরা ভাগ্যবান, ‘প্রথমার্ধে যেমন খেলেছি, বিরতিতে সমতা নিয়ে যাওয়া আমাদের প্রাপ্য ছিল না… কিন্তু এটাই ফুটবল এবং আমরা অনেক অনেক খুশি।’
এ বছরই ডর্টমুন্ড ছেড়ে মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। সাবেক দলকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর এই রাতকে জীবনের সেরা রাত বলতে কোনো দ্বিধা নেই তাঁর, ‘আমি এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছি সবসময়। জীবনে চলার পথে অনেককেই বলতে শুনবেন যে এটা করার ক্ষমতা নেই তোমার। মা ও বাবার মুখ দেখার আগ পর্যন্ত আমি স্বাভাবিক ছিলাম (আবেগ নিয়ন্ত্রণে ছিল)।’
এদিকে ১১ বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে আবার হারতে হয়েছে ডর্টমুন্ডকে। ম্যাট হামেলস মেনে নিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মাদ্রিদকে হারানোটা প্রায় অসম্ভব, ‘মনে হচ্ছে যেন ১০০ বছর ধরে ওরা এটা করেই যাচ্ছে। আমরা চারটা সুযোগ পেয়েছি এবং একটা গোল করা উচিত ছিল। আমরা এত সুযোগ পেয়েছি এবং গোল তো করতে হবে।’
ডর্টমুন্ড কোচ এদিন তারজিচও মেনে নিয়েছেন হার, ‘আমরা সুযোগ কাজে লাগাইনি। কিন্তু ওরা হিমশীতল ছিল এবং ওরাই যোগ্য চ্যাম্পিয়ন।’



