২০২১ কোপা আমেরিকা বললে ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাঁর দারুণ লবের কথা মনে পড়বে আর্জেন্টিনা ভক্তদের। লা ফিনালিসিমা ছোট টুর্নামেন্ট বলে সেটি আর এত গুরুত্ব পায় না, আর্জেন্টিনা পরে বিশ্বকাপও জিতে যাওয়ায় তো আরও দাম হারিয়েছে ট্রফিটা – তবে সে শিরোপার পথেও একটা গোল আছে তাঁর। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে ফাইনালে অসাধারণ টিম মুভের পর তাঁর গোল তো বিশ্বকাপ ইতিহাসেই জায়গা পাওয়ার মতো।
আনহেল দি মারিয়ার আর্জেন্টিনার হয়ে আর কোনো আক্ষেপ তো থাকার কথা নয়। শুধু সিনিয়র দলের হিসাবই কেন, অলিম্পিকেও তো আর্জেন্টিনাকে সোনা এনে দিয়েছেন তিনি, এবং সে ফাইনালেও তাঁর অসাধারণ লবই আর্জেন্টিনার শিরোপানির্ধারক। তবু সে দি মারিয়াই এখনো ডিপ্রেশনের ওষুধ খেয়ে চলেছেন!
কারণ? সাফল্যে ঘেরা এই সময়ের আগে ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে পরের দুই বছরে দুই কোপা আমেরিকা – টানা তিন ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনার দুঃস্বপ্নের সে সময়ের আঁচ যে এখনো যায়নি দি মারিয়ার মন থেকে!
ইনফো বে-র সঙ্গে আলাপে তা-ই জানিয়েছেন দি মারিয়া, ‘ওটার কারণে (টানা তিন বছরে তিন ফাইনালে হার) আমি এখনো ওষুধ খাচ্ছি। (মাত্রা) কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। তবে এই ওষুধগুলো তো কিছুটা আসক্তও করে ফেলে! এই ব্যাপারগুলো থেকে যায়, জীবনে চিহ্ন রেখে যায়।’
চিহ্ন যে রেখে যায়, তা দি মারিয়ার কথায়ই বোঝা যায়। ৩৭ বছর বয়সী দি মারিয়া আর্জেন্টিনার হয়ে গত জুলাইয়ে টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছেন। পেছনে ফিরে তাকালে তাঁর ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা বলতে আর কিছু থাকার কথা নয় বটে। তবে এখনো ওই তিন বছরে বারবার ফিরে তাকায় তাঁর মন। আর যতবার ফিরে তাকায়, দি মারিয়ার মনে পড়ে যায় সে সময়ে জাতীয় দলের সতীর্থদের কথা।
দে পল, এনসো ফের্নান্দেস, ম্যাকঅ্যালিস্টার, এমিলিয়ানো মার্তিনেসদের এই প্রজন্মকে নিয়ে বিশ্বকাপ জিতলেও ইগুয়াইন-আগুয়েরোদের সে প্রজন্মের কথা ভোলেন না দি মারিয়া। তাঁদের জন্য খারাপ লাগার কথাটা উঠে এসেছে ইনফো বে-র সঙ্গে আলাপেও, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারা ওই দলটার কথা এখন আর কজন মনে রাখে! সংখ্যাটা খুব কম। আমার কাছে ব্যাপারটাকে অন্যায্য মনে হয়। ওই ছেলেদের কথা কে বলে? কেউ না! খুব কম মানুষই এখন আপনাকে বলতে পারবে ওই দলটা কেমন খেলেছে!’
আর্জেন্টিনা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ অপ্রাপ্তি ঘোচানোর পর লিওনেল মেসি যেমন কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপের সে প্রজন্মের প্রতি, দি মারিয়ার সুরও একই, ‘আমরা বিশ্বকাপ জেতার পর, কোপা আমেরিকা জেতার পর অনেকবার কথাটা বলেছি, যে, এই ট্রফিগুলোর পেছনে আগের প্রজন্মের ওই দলটারও অবদান আছে।’



