লা লিগায় সর্বশেষ ম্যাচে রেয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে রেয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ নিয়ে ফরাসি তারকাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা চলছে। তবে সেসবকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না এমবাপ্পে। বরং সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এবারের বালন দ’রে সুযোগ থাকলে নিজেকেই পুরস্কার তুলে দিতেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে আজ রাতে সেরি আ-র ক্লাব ইন্তের মিলানোর মুখোমুখি হবে রেয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এমবাপ্পে পিএসজি ছেড়ে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার দুই মৌসুম পার হয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার দেখা পাননি। অন্যদিকে এমবাপ্পে প্যারিস ছাড়ার পরই তাঁর সাবেক ক্লাব পিএসজি দুবার ইউরোপ সেরা হয়েছে। এর মধ্যে একবার বালন দ’র জিতেছেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ উসমান দেম্বেলে।
বালন দ’র জিততে দেম্বেলে কিংবা বার্সেলোনার রাফিনিয়ার মতো আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও এমবাপ্পের ভূমিকা রাখা উচিত, এমন কথাও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে অনেকেই এমবাপ্পের সঙ্গে টেনে আনছেন ভিনিসিয়ুসকেও।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, রেয়ালের ফরোয়ার্ডদেরও রক্ষণে ভূমিকা রাখা উচিত কিনা? জবাবে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘শুধু আমি আর ভিনিসিয়ুস? অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে চাইলে আমি মজা করে বলতে পারি, আপনার উল্লেখ করা ওই দুই খেলোয়াড়ের (রাফিনিয়া ও দেম্বেলে) চেয়ে আমি বেশি গোল করি। তাই তাদেরও আমার মতো হতে হলে আরও বেশি গোল করতে হবে।’
এমবাপ্পে যোগ করেন, ‘তবে আমি বলব, অবশ্যই আমারও উন্নতি করতে হবে। যদিও এমন কিছু কাজ আমি করি, যা অন্যরা (দেম্বেলে ও রাফিনিয়া) করে না। তবে আমি তুলনা করতে পছন্দ করি না। এটা এমন এক বিতর্ক, যার শেষ নেই। রেয়াল মাদ্রিদের সবাইকেই এই জায়গায় উন্নতি করতে হবে, যাতে আমরা প্রতিপক্ষকে কম সুযোগ দিতে পারি।’
সর্বশেষ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তোলার পথে ১০ গোল করেছেন এমবাপ্পে। তাতে ৩ বিশ্বকাপ খেলা এমবাপ্পের নামের পাশে এখন ২২ গোল। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি। অনেকের মতে, ২০২৬ বালন দ’র জয়ের অন্যতম ফেবারিট এমবাপ্পে। তবে ফরাসি তারকার মতে, সুযোগ থাকলে তিনি নিজেই নিজেকে ভোট দিতেন।
এ প্রসঙ্গ এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আপনি যখন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলবেন, বিশ্বের সেরা ক্লাবের হয়ে খেলবেন, তখন এসব পুরস্কারের সঙ্গে আপনার নাম জড়াবেই। রাস্তায় মানুষ আমাকে দেখলেও অনেকে এ নিয়ে কথা বলেন।’
এমবাপ্পে যোগ করেন, ‘বালন দ’রে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে নিজেকেই ভোট দিতাম।’ কেন নিজেকে ভোট দিতেন, সেটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফরাসি তারকা, ‘বালন দ’র ব্যক্তিগত সেরার পুরস্কার। তাই একজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে কী করেছে, সেটাই আমাদের দেখা উচিত। মানুষ বলছে, আমি কোনো শিরোপা জিতিনি! এর আগে বালন দ’র জেতা এমন একজনকেও দেখিনি, যে এটা জেতার সব মানদণ্ড পূরণ করেছে।’
এরপর এমবাপ্পে টেনে এনেছেন সর্বশেষ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগেও তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গ টেনে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া— এটা মানুষের মনে গেঁথে থাকে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা খেলেন, দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া... এর আগে কেউ এমনটা করেছে কি না, আমি জানি না। তাই ইতিহাস গড়া কোনো অর্জনকে সবসময়ই পুরস্কৃত করা উচিত।’
আর সে কারণেই বালন দ’র জয়ে অন্যদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন এমবাপ্পে, ‘আমার অর্জনগুলো এবং এ বছর অন্য খেলোয়াড়েরা কী করেছে— সবকিছু বিবেচনা করলে আমি বলব, “হ্যাঁ, আমি বালন দ'র জিতলে কারও প্রতি অবিচার হবে না।”’
নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করি। তবে এটা খুবই ব্যক্তিগত বিষয়। সবার নিজস্ব মতামত আছে। এখানে কেউ হয়তো আমাকে সেরা মনে করবেন, আবার কেউ করবেন না। সবাইকে আমার মতো করে ভাবতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।’
শেষে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘এ বছর বালন দ’র জেতার জন্য ভালো একটা বছর হতে পারে। তবে ভোট দেবেন সাংবাদিকেরা, আর তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’



