ছেলেদের ফুটবলে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংলিশরা সাফল্য পেয়েছিল ঘরের মাঠে। ইউরো কখনো জেতা হয়নি ইংল্যান্ডের ছেলেদের। মেয়েদের ফুটবলে আবার বিশ্বকাপ কখনো আসেনি, তবে ইউরোতে ইংলিশরা এর আগে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০২২ সালে ইউরোপ সেরার ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ক্লোই কেলির গোলে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংলিশরা। সে প্রতিযোগিতার আয়োজনও ছিল ইংল্যান্ডেই।
দেশের মাটিতে সাফল্য পেলেও দেশের বাইরে কোনোভাবেই সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারছিল না ইংল্যান্ড। অবশেষে সে ধারা ভেঙেছে সারিনা ভাইগমানের শিষ্যরা। সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত এবারের ইউরোর ফাইনালে গতকাল রাতে স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকার নাটকীয়তায় ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
ইংলিশদের সাফল্যে এবারও বড় অবদান রেখেছেন ক্লোই কেলি। সেন্ট জ্যাকব পার্কে মারিওনা কালদেন্তেইয়ের গোলে ২৫ মিনিটে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে (৫৭ মিনিটে) কেলির দারুণ এক অ্যাসিস্টে ইংলিশদের সমতায় ফেরান অ্যালেসিয়া রুসো। এরপর টাইব্রেকারে ইংলিশদের হয়ে কেলির পঞ্চম ও শেষ শটটা জালে আশ্রয় নিতেই টানা দ্বিতীয় ইউরো জয়ের আনন্দে ভেসে ওঠে ইংল্যান্ড।
কেলির গোলটার আগে অবশ্য পেনাল্টি শুট আউটে নাটকীয়তা কম হয়নি। ইংল্যান্ডের হয়ে নেওয়া বেথ মেডের প্রথম শটটা ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলকিপার কাতালিনা কোল। অন্যদিকে পাত্রিকা গুইসারোর লক্ষ্যভেদে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্প্যানিশরা।
সেখান থেকেই দুঃস্বপ্নের শুরু স্পেনের। পরের তিন শটই মিস করে ২০২৩ মেয়েদের ফুটবলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এর মধ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলকিপার হ্যানা হ্যাম্পটন। ইংল্যান্ডও অবশ্য একটা মিস করে। তাতে দুদলের ৪টি করে শট শেষে ইংলিশরা এগিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের হয়ে পঞ্চম ও শেষ শট জালে জড়িয়ে ম্যাচের সমাপ্তি টেনে দেন কেলি।
একইসঙ্গে দারুণ একটা প্রতিশোধও নেওয়া হলো ইংল্যান্ডের। এর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্প্যানিশদের কাছে হেরেই শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায় ইংলিশদের।
গতকাল কেলির নেওয়া শেষ পেনাল্টি শটটি স্পেনের জালে আশ্রয় নিতেই শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড। দলটির কোচ সারিনা ভাইগমানের নামও উঠে যায় বিরল কীর্তিতে। পরপর তিনটি ইউরোতে দলকে শিরোপা এনে দিলেন ৫৫ বছর বয়সী এ ডাচ কোচ। এর আগে ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসের ইউরো জয়ের সময় ডাচদের ডাগআউটে ছিলেন তিনি। পরের দুটি শিরোপা জিতলেন ইংলিশদের নিয়ে।



