চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে অন্যতম অসম লড়াই হিসেবে তুলনা করা হচ্ছিল রেয়াল মাদ্রিদ-কাইরাতের ম্যাচটিকে। একদিকে নামে-ভারে, ঐতিহ্যে বা শক্তিতে এগিয়ে থাকা মাদ্রিদ, অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা কাজাখস্তানের ক্লাব কাইরাত আলমাতি। এ ম্যাচে যে শাবি আলোনসোর দল বড় জয় পাবে, সেটাই ছিল অনুমেয়।
তবে একটা শঙ্কা ছিল। এ ম্যাচের আগে গত শনিবার রাতে লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় রেয়াল মাদ্রিদের আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও কমার কথা। তবে সেটা প্রভাব ফেলেনি গতকালের ম্যাচে। পাভলোদার সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে ভর করে কাইরাতকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শাবির দল। মাদ্রিদের হয়ে অন্য দুটি গোল করেছেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও ব্রাহিম দিয়াস।
গতকালের হ্যাটট্রিকে একটা রেকর্ডে নাম উঠেছে এমবাপ্পের। চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাওয়ে ম্যাচে এটি ফরাসি স্ট্রাইকারের তৃতীয় হ্যাটট্রিক, যা টুর্নামেন্ট ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ইউরোপ সেরার মঞ্চে এর আগে শুধু ফিলিপো ইনজাঘিই অন্যের মাঠে তিনটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬০ গোল হয়ে গেল এমবাপ্পের। তবে হ্যাটট্রিক করেও সন্তুষ্ট নন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে সে হতাশা প্রকাশ করে এমবাপ্পে জানিয়েছেন, তাঁর আরও বেশি গোল করা উচিত ছিল।
গতকালের ম্যাচে অবশ্য প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল কাইরাত। ম্যাচ শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আক্রমণে উঠেছিল দলটি। তবে থিবো কোর্তোয়ার কল্যাণে গোলমুখ অক্ষত থাকে মাদ্রিদের।
অন্যদিকে মাদ্রিদের শুরুটা হয় কিছুটা রয়েসয়ে। প্রথম গোলের জন্য মাদ্রিদকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৫ মিনিট পর্যন্ত। বক্সের ভেতর ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে ফেলে দিয়েছিলেন কাইরাত গোলকিপার শেহরান কালমুরসা। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি মার্কো গুইদা। স্পটকিক থেকে গোল করে মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
ওই গোলের আগে পরে ফরাসি তারকা অবশ্য আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তাতে ন্যূনতম ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় শাবির দলকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোলউৎসবে মেতে ওঠে মাদ্রিদ।
৫২ মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার লম্বা করে বাড়ানো পাস ধরে কাইরাত গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে স্কোরলাইন দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে। ৭৩ মিনিটে আরদা গুলাশের পাসে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বুলেটগতির আচমকা শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা। ১০ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ান কামাভিঙ্গা। আর যোগ করা সময়ের শেষ দিকে কাইরাতের কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন দিয়াস।
ব্যবধান আরও বাড়াতে না পেরে ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমার মতো খেলোয়াড় যখন পাঁচটা সুযোগ পায়, পাঁচটাই গোল করা উচিত। আমি আজ তিনটি গোল করেছি। এটা ভালোই। তবে আরও গোল করতে পারতাম। গোলের সামনে আরও ক্ষুরধার হতে কাজ চালিয়ে যাব।’
প্রায় একইধরনের কথা বলেছেন শাবিও, ‘এই মঞ্চে গোলের সুযোগ পেলে সেটা মিস করা যাবে না। আরও গোল করা যেত। তবে আজকের (মঙ্গলবার) কাজ আপাতত সম্পন্ন।’



