বিশ্বকাপে মেসির আরও একটি রেকর্ডময় রাত। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর লক্ষ্যভেদ করে বিশ্ব আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর নিজের দ্বিতীয় গোল করে, নারী-পুরুষ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ গোল এখন মেসির। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
বয়স নাকি কেবল একটা সংখ্যা মাত্র। সত্যিই কি তাই! সবার জন্য মিথ্যে হলেও, মেসির ক্ষেত্রে একদম পারফেক্ট। ভিনগ্রহের ফুটবলার খেতাবটা তো আর এমনি এমনি পাননি। ৩৯ ছুঁই ছুঁই মেসি ম্যাজিকে মন্ত্রমুগ্ধ গোটা দুনিয়া।
অস্ট্রিয়া ম্যাচে করলেন তিন রেকর্ড। একটি হতাশার হলেও, অন্য দুটি মেসিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শুরতেই পেনাল্টি মিসে ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে নেমে এলো নিস্তব্ধতা। বিশ্ব মঞ্চে তিন পেনাল্টি মিস করা একমাত্র ফুটবলার মেসি।
গোলটা পেলেই রেকর্ডের পাতায় হতো কাটা ছেড়া। কিন্তু ইতিহাস মাঝে মাঝে এভাবেই খেলা করে। তবে সমর্থকদের খুব বেশি অপেক্ষায় রাখেননি। ৩৮ মিনিটে আলমাদার দারুণ এক ডামি, মেসির চোখ ধাঁধানো ফিনিশিং।
বিশ্ব আসরে সাবেক জার্মান স্ট্রাইকার ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলে রেকর্ড অবশেষে ভাঙল। ১৭তম গোল করে সে কি বুনো উল্লাস মেসির। টপ স্কোরারের তালিকায় ক্লোসার সঙ্গে যৌথ ভাবে দুইয়ে এমবাপে। ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো চারে। আরেক জার্মান লিজেন্ড মুলার পাঁচে।
ক্লোসার রেকর্ড ভাঙলেও, নারী-পুরুষ মিলিয়ে তখনও যৌথভাবে শীর্ষে মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে করলেন জোড়া পূরণ। তাতে ব্রাজিলের নারী কিংবদন্তি মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে মেসির ১৮তম গোল উদযাপন।
খেলা শেষে আর্জেন্টিনান অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর কিছুক্ষণ ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আক্ষেপটা কেটেছে। তাছাড়া রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবি না। দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছি, এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমর্থকদের আরও আনন্দ দিতে চাই।’
ক্লোসার আরও একটি রেকর্ড এখন মেসির দখলে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭ ম্যাচ জিতেছিলেন সাবেক জার্মান স্ট্রাইকার। অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ১৮তম জয় উদযাপন মেসির। যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, আরও কত কীর্তি যে গড়েন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।



