নেইমারের পর এবার চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্পেনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। সে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
কিছু বিদায় লেখা থাকে অশ্রুতে। কিছু পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার গল্প নয়, একটি যুগের অবসানের গল্পও। স্পেনের কাছে হেরে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। সে সঙ্গে বিশ্ব মঞ্চে শেষ হয়ে গেল রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারও।
যোগ করা সময়ে গোল হজমের পরই রোনালদোর চোখে-মুখে বিষাদের কালো ছায়া। শেষ বাঁশি বাজল, নিজের অবেগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সিআর সেভেনের। শেষ পর্যন্ত পারলেন না। কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কাঁদালেন তার কোটি কোটি ভক্তকে।
সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন রোনালদো। বাকি ছিল এক বিশ্বকাপ। বয়সকে হার মানিয়ে ৪১ বছর বয়সে এসে সেই সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন। কিন্তু সব সমাপ্তি রূপকথার মতো হয় না। রোনালদোর কান্নায় ভিজলো ডালাসের ঘাস।
ইউসেবিয়ো, ফিগো যা পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে সাবেক রিয়াল তারকার অধিনায়কত্বে ইউরো জয়। যেটা শুধু সিআর সেভেনেরই নয়, পর্তুগালেরই প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা।
নেশন্স লিগ জয়েরও কীর্তি আছে। ২০১৯ সালে প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। গেল বছর শিরোপা পুনরুদ্ধার করে পর্তুগিজরা। প্রতিটি ট্রফি জয়ে বড় ভুমিকা রোনালদোর। কিন্তু বিশ্বকাপটা অধরাই রয়ে গেল।
শিরোপা জেতা হয়নি, কিন্তু রেকর্ড ঠিকই গড়েছেন। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ছয় আসরে গোল করার কীর্তি পর্তুগিজ মহাতারকার। নকআউট গোল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল। সেটাও ঘুচেছে এবার।
বিশ্ব মঞ্চে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ ম্যাচ খেলেছেন। পর্তুগিজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ গোল সিআর সেভেনেরই।
বিশ্বকাপ ছোঁয়া হয়নি। কিন্তু সব কিংবদন্তির শ্রেষ্ঠত্ব শিরোপা দিয়ে মাপা যায় না। রোনালদোও তেমনই এক ফুটবলার, যার নাম উচ্চারিত হবে পর্তুগিজ ফুটবলের শিল্প, সৌন্দর্য ও আবেগের প্রতীক হিসেবে।



