সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির মতো তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও পাত্তা পায়নি আফগানিস্তান। দিল্লিতে অভিষেক শর্মার ৩৪ বলে ৯ চার ১১ ছক্কায় ১০৮ রানের তাণ্ডবে স্রেফ উড়ে গিয়েছে আফগানরা।
অভিষেকের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল ভারত। রান তাড়ায় নেমে মোটে ৯৪ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানরা। তাতে ১২৭ রানে জিতে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।
অভিষেকের তাণ্ডবে এ ম্যাচে একগাঁদা রেকর্ড হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব-
৩০ বলে সেঞ্চুরি:
সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে অভিষেক শার্মার লেগেছে ৩০ বল। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আর সব দল বিবেচনায় নিলে, তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। সদস্য দেশসহ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের (২৭ বলে)। আর ২০২৫ সালে সোফিয়ায় বুলগেরিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেন।
৮.৩ ওভারে সেঞ্চুরি
অভিষেক যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তখন ইনিংসের মোটে ৮.৩ ওভারের খেলা চলে। ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই দ্রুততম সময়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার রেকর্ড। আগের রেকর্ডটাও অভিষেকেরই ছিল। গত বছর ওয়াংখেড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০.১ ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন তিনি।
১০ টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি:
সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটি ছিল অভিষেকের ১০ম সেঞ্চুরি। ভারতের ব্যাটাসম্যানদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডে বিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি। ৮টি করে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি নিয়ে এ তালিকায় দুইয়ে আছেন রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও সানজু স্যামসন।
আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় নিলে, এটি অভিষেকের তৃতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ওপেনিং সঙ্গী স্যামসনেরও তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি আছে। ভারতের হয়ে এই সংস্করণে আভিষেকের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন শুধু রোহিত শার্মা (৫টি) ও সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ (৪টি)।
৯৪.৪৪% বাউন্ডারি থেকে:
অভিষেকের করা ১০৮ রানের মধ্যে ১০২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। যা মোট রানের ৯৪.৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি ইনিংসে এটাই বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রানের হার।
১১ ছক্কা
গতকালের ইনিংসে অভিষেক ১১টি ছক্কা হাঁকান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি। এ তালিকায় সবার ওপরে আছেন অভিষেক নিজেই। গত বছর ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ইনিংসে ১৩টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি।
পাওয়ার প্লে-তে আভিষেকের ৭৬:
গতকাল পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে অভিষেকের নামের পাশে ছিল ২২ বলে ৭৬ রান, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। এর আগে রেকর্ডটি ছিল পর্তুগালের কুলদীপ ঘোলিয়ার দখলে। ২০২৩ সালে জিব্রাল্টারে মাল্টার বিপক্ষে পাওয়ারপ্লে শেষে ২৫ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেছিলেন তিনি। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। ২০২৪ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ারপ্লে শেষে ২২ বলে অপরাজিত ৭৩ রান করেছিলেন তিনি।
পাওয়ার প্লে-তে বিনা উইকেটে ১০০
পাওয়ার প্লে-তে গতকাল ভারত বিনা উইকেটে ১০০ রান তোলে। যা টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-তে ভারতের সর্বোচ্চ রান। সব দল মিলিয়ে এটি যৌথভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ। পাওয়ারপ্লেতে ভারত এবার চতুর্থবার ৯০ রানের গণ্ডি পেরোল। আর প্রতিবারই দলের হয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অভিষেকের।
২০ বলের নিচে ৬ষ্ঠ ফিফটি:
গতকাল অভিষেক ফিফটি পূর্ণ করেছেন ১৭ বলে। এ নিয়ে ষষ্ঠবার ২০ বা এর চেয়ে কম বলে ফিফটি আদায় করলেন অভিষেক। এই ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। যুবরাজ সিং, কলিন মুনরো, ফিন অ্যালেন, দাসুন শানাকা ও ইসোয়াতিনির আদিল বাট— এই পাঁচ ব্যাটসম্যান তিনবার করে ২০ বা তার কম বলে ফিফটি করেছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই এ নিয়ে পঞ্চমবার ফিফটি করলেন অভিষেক। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের অন্য কোনো ব্যাটসম্যান দুইবারের বেশি এমন কীর্তি করতে পারেননি।



