৪০ হাজার টন লাইমস্টোন কিনতে দরপত্র আহ্বান করে পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে দরপত্রের শিডিউল ড্রপবক্সে ফেলতে পারেনি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
বিষয়টিকে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান নরিনকো ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়।
গত ১৯ আগস্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য ৪০ হাজার টন লাইমস্টোন কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত। বুধবার নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দিতে গেলে খিলক্ষেতে রুরাল পাওয়ারের অফিসে সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে পড়েন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বেনওশান মেরিটাইম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'লিফটে উঠতেই আমাদেরকে প্রায় ৩৫-৪০ জন সন্ত্রাসী আমাদেরকে বাধা প্রদান করে। কারণ জিজ্ঞেস করি যে, কেন ভাই আমাদেরকে যেতে দেবেন না, বলছে, আপনারা টেন্ডার দিতে পারবেন না, টেন্ডার দেওয়ার দরকার নাই, চলে যান। আমরা একটু জোর করে ঢুকতে গেছি, আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ওখান থেকে বের করে দিয়েছে।'
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ১২টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার শিডিউল কিনলেও জমা দিতে পেরেছে মাত্র ৪টি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগপত্র কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
আরএনপিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ মুঠোফোনে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, '১২টা টেন্ডার... কিনেছিল, ৪টা ড্রপড হয়েছে। এখন এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে টেন্ডার ইভালুয়েশন কমিটি। আমরা ইতোমধ্যেই ৫ থেক ৬টা আপত্তিপত্র পেয়েছি যে, তারা টেন্ডার জমা দিতে পারেনি। ই-জিপি থেকে হলে ভালো হবে এখন আমার হিসেবে। এভাবেতো মিসক্রিয়েন্ট ক্রিয়েট হতে পারে প্রায়ই।'
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ই-জিপির পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্রে করার সমালনোচনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, 'প্রথম কথা হচ্ছে যে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ এরকম সন্ত্রাস তারা করতে পারে না। বলপূর্বক সরকারি কার্যক্রমে ক্রয়খাতে বাধা দেওয়া, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাকে রোধ করার জন্য এরকম বলপ্রয়োগ, এটা আমি আবার বলব, এটা ক্রয় সন্ত্রাসের সমতুল্য, এটা বন্ধ করতে হবে। তার জন্য যারা এর সাথে জড়িত, তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, এক। দ্বিতীয় হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এর সাথে জড়িত তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।'
রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় অপচয়-দুর্নীতি রোধ করতে, রাজনৈতিক ও পেশীশক্তির প্রভাব এড়াতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তৈরিরও তাগিদ দেন পর্যবেক্ষকরা।



