সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন দলবদলে হুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। উল্টো এখন জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে কাতালান ক্লাবটিকে।
আতলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের আগ্রহ জানানোর আগেই আলভারেসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বার্সাকে ৬০২ ইউরো জরিমানা করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ), বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬২০ টাকা। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইএসপিএন।
এর আগে রবের্ত লেফানদফস্কি ও ফেরান তোরেসের শূন্যতা পূরণে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছিল বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য ছিল আলভারেসকে দলে টানা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে পেতে কয়েকদফা চেষ্টাও চালায় বার্সা।
এদিকে আলভারেসকে দলে নিতে বার্সার এমন প্রচেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয় আতলেতিকো মাদ্রিদ। তাদের অভিযোগ, আলভারেসের সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে যোগাযোগ করেছে বার্সেলোনা। এ নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন ও ফিফার কাছে অভিযোগও জানায় মাদ্রিদের ক্লাবটি।
ফিফা জানিয়ে দেয়, এই ঘটনা তদন্ত করার এখতিয়ার তাদের নেই। তবে আলভারেসের তৎকালীন এজেন্ট ফের্নান্দো হিদালগোর সঙ্গে বার্সেলোনা যোগাযোগ করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি সপ্তাহে ক্লাবটিকে এই ৬০২ ইউরো জরিমানা করে আরএফইএফ।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তদন্ত অনুসারে, আলভারেসের ব্যাপারে আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে বার্সা প্রথমবার লিখিত যোগাযোগ করে গত ২৮ মে। কিন্তু তারও প্রায় দুই সপ্তাহ আগে (১৩ মে) আলভারেসের এজেন্ট হিদালগোর সঙ্গে আলাপ করেন বার্সার ক্রীড়া পরিচালক দেকো।
তবে এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নীতিমালার ৯৩ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিবর্তে ১৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় একে ‘লঘু নিয়মভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে শাস্তির মাত্রাও কম রাখা হয়েছে। কেন অনুচ্ছেদ ৯৩ প্রযোজ্য হলো না, সেটার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওই ধারাটি শুধু ‘জেনেশুনে ও বারবার লঙ্ঘনের’ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
আলভারেসকে পেতে ওই সময় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা। কিন্তু আতলেতিকোর প্রধান নির্বাহী মিগেল আনহেল হিল মারিন বারবার জানিয়েছেন, তাঁরা বার্সার আলভারেসকে বিক্রি করবেন না। আর তাই আলভারেসের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই দলবদল সম্ভব হয়নি।


