বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে উত্তরার একটি রেষ্টুরেন্টে দেড় ঘণ্টা অবস্থানের ফুটেজ পাওয়ার পর, তদন্তে আসে নতুন গতি। এখন বাসা থেকে বের হওয়া এবং মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাহসিফের যাবতীয় গতিবিধির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। এদিকে গ্রেপ্তার তাহসিফের বন্ধু দীপকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে বারবার বক্তব্য পরিবর্তনের কারণে দীপের ওপর সন্দেহ গভীর হচ্ছে পুলিশের।
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সাউরির বাসায় যান তাঁর বন্ধু দীপ। সেখান থেকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে ওই বাসা থেকে বের হন তারা। এরপর ২৮ অক্টোবর (বুধবার) উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজবাড়ি ঘাট এলাকার কচুরিপানার নিচ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় পিবিআইয়ের হাতে আটক হন দীপ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে টঙ্গীর মাজার বস্তির পাশ থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিবিআইকে দীপ জানান, রাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন তাহসিফ। বিভিন্ন সময়ে দীপের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তাদের আমি জানিয়েছি আমার ছেলের মৃত্যুর কারণটা উদঘাটন করার জন্য। এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আবেদন জানিয়েছি।’
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় দীপকে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, ‘কারা কারা তাকে হত্যা করেছে এবং কী পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়েছে এটা বিস্তারিত জানার জন্য দীপের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘দুই দিন দেওয়া যেতে পারে, আমাদের পক্ষ থেকেও পুলিশের সহযোগিতায় জন্য দুই দিনের রিমান্ডের আর্জি ছিল।’
এদিকে এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফ ও এক তরুণী উত্তরার একটি রেষ্টুরেন্ট ও বারের লিফটে উঠার অপেক্ষায়। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ এলে তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান। টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে ওই রেস্টুরেন্ট তারা কি করেছিল সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


