মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ইমেইলের তথ্য চুরির দাবি করেছিল ইরানি একদল হ্যাকার। এর মধ্যে গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় কিছু ইমেইল তারা প্রকাশ্যেও আনে। এবার তারা আরও ইমেইলে থাকা তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়
রয়টার্স বলছে, গত রোববার ওই হ্যাকারদের সঙ্গে অনলাইনে চ্যাট হয় তাদের। ওই গ্রুপটির ছদ্মনাম রবার্ট। হ্যাকারেরা দাবি করছে, তাদের কাছে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের যে ইমেইল রয়েছে, তা হিসাব করলে মোট ১০০ গিগাবাইট হবে। যাদের ইমেইল ফাঁস করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি উইলস, ট্রাম্পের আইনজীবী লিন্ডসে হ্যালিগান, উপদেষ্টা রজার স্টোন ও পর্ন তারকা স্টর্মি ডেনিয়েলস।
রবার্ট নামের হ্যাকার গ্রুপটি বলছে, তারা এসব তথ্য বিক্রি করে দিতে পারে। কেউ কিনলেই কেবল ইমেইলের তথ্য জানানো হবে, অন্যথায় কেউ জানবে না। এসব ইমেইলে কী রয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তারা।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এই ঘটনাকে ‘একটি অযৌক্তিক সাইবার-আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হোয়াইট হাউস এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল একটি বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। কাশ প্যাটেল বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার যেকোনো ধরণের লঙ্ঘনের সাথে জড়িত যে কোনো ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ পরিসরে বিচার করা হবে।’
ট্রাম্পের আইনজীবী লিন্ডসে হ্যালিগান, উপদেষ্টা রজার স্টোন ও পর্ন তারকা স্টর্মি ডেনিয়েলসের প্রতিনিধি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন থেকেও কোনো মন্তব্য আসেনি। যদিও এর আগে তেহরান দাবি করে, এসব তথ্যফাঁসের সঙ্গে তারা জড়িত নয়।
গত বছরের আগস্টেই জানা গিয়েছিল, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের তথ্য হ্যাক হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তখন বলেন, ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের তথ্য হ্যাক করেছে ইরানের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ট্রাম্পের সেসব ইমেইল চুরি করে তৃতীয় পক্ষকে দিয়েছে ওই হ্যাকিং গ্রুপ। আর সেই তৃতীয় পক্ষ হচ্ছে ডেমোক্র্যাট শিবির। তবে, আগে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুলাই থেকেই হ্যাকিং গ্রুপটি বেনামি একটি উৎস থেকে ইমেইল পেতে শুরু করে। এসব ইমেইলে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের কার্যক্রমের অভ্যন্তরীণ তথ্য ছিল। এর পরেই তারা বুঝতে পারে যে, হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। এমনকি অজ্ঞাত এক ইমেইলে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট (রানিং মেট) পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য দুর্বলতা নিয়েও তথ্য ছিল বলে জানা যায়।
এসব ইমেইলে বেশকিছু গোপন তথ্য রয়েছে। এতে দেখা যায়, পররাষ্ট্রের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ট্রাম্প। আর সেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।
গত বছরের মে ও জুনে এসব ইমেইল চুরি হয় বলে জানা যায়। প্রথমে পাসওয়ার্ড চুরি করা হয়। পরে তা দিয়ে প্রবেশ করে নিয়ে নেওয়া হয় তথ্য।



