অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে ভূমধ্যসাগর। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ গেছে এক হাজারের বেশি মানুষের। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নিরাপদ ও আইনসম্মত পথ খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইওএমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আফ্রিকা-তুরস্কের উপকূল থেকে নৌকায় সাগর পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা অনেকে বেড়েছে। উন্নত জীবনের আশায় এ যাত্রায় বেশিরভাগেরই ভাগ্যে জুটছে সলিল সমাধি। এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ নভেম্বর। এদিন ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। যাত্রা শুরুর চতুর্থ দিনে লিবিয়ার ভুমধ্যসাগরস্থ তেলের খনি আল বুরি অয়েল ফিল্ডের কাছে ডুবে যায় নৌকাটি।
বুধবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘ট্র্যাজিক ইভেন্ট’ উল্লেখ করেছে আইওএম। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে অভিবাসনের জন্য নিরাপদ ও আইনসম্মত পন্থা অলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটি।
এশিয়া এবং ইউরোপকে বিভক্ত করা ভূমধ্যসাগরের একদিকের উপকূলে তুরস্ক, লিবিয়া ও মরক্কো অবস্থিত, অপরদিকের উপকূলে ইতালি ও গ্রিস। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু-নিখোঁজের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার বাসিন্দা। হতাহতদের মধ্যে লিবিয়া, মিশর, সোমালিয়া, সিরিয়া ছাড়াও রয়েছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।



