দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের সমুদ্রবাণিজ্য। পরিস্থিতি সামলাতে তেল রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উত্তরের কাস্পিয়ান সাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্যপথে ঝুঁকছে তেহরান। তবে পানির স্তর কমে যাওয়া ও সীমিত বন্দর সক্ষমতার কারণে এই পথেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।
৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও সমাধান মেলেনি। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা এবং দক্ষিণের বন্দরগুলোতে অব্যাহত নৌ অবরোধে ব্যাহত হচ্ছে ইরানের বাণিজ্য।
এ অবস্থায় বিকল্প পথ হিসেবে এখন কাস্পিয়ান সাগরমুখী হচ্ছে তেহরান। আনজালি, আমিরাবাদ ও নওশাহর বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্যসহ জরুরি পণ্য আমদানির চেষ্টা চলছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলবেষ্টিত জলভাগ কাস্পিয়ান সাগর। ইরান ছাড়াও এর তীরবর্তী দেশ রাশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। তবে পানির স্তর দ্রুত কমায় এখানকার নৌবাণিজ্যে পড়েছে চাপ।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির হিসাবে, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে সাগরটির পানির স্তর প্রায় ২ মিটার কমেছে। এ শতাব্দীর শেষে তা আরও ৮ থেকে ২১ মিটার কমতে পারে।
পানির স্তর কমায় ইরানের বন্দরগুলোর সক্ষমতাও কমেছে। আগে যেখানে ৬ হাজার টন পর্যন্ত জাহাজ ভিড়তে পারত, এখন সেখানে ভিড়ছে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টনের।
এদিকে, চীন থেকে কাজাখস্তান হয়ে কাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে ইরানে পণ্য আনার পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে রাশত-আস্তারা রেলপথের অসম্পূর্ণ অংশ শেষের উদ্যোগ।
আর্মেনিয়া ও তুরস্ক সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোথাও অপেক্ষার সময় পৌঁছাচ্ছে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগর ইরানের জন্য বিকল্প বাণিজ্যপথের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সীমিত বন্দর সক্ষমতা, পরিবহন অবকাঠামোর ঘাটতি ও রাশিয়ার ওপর বাড়তি নির্ভরতা এতে বড় বাধা হয়ে থাকছে। ফলে বিকল্প হিসেবে উত্তরের এই পথ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি রয়েছে অনিশ্চয়তা।


