শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত আমেরিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল। ১৭ অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এর মধ্যে ১২টি অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল জরুরি দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তীব্রতা ও বিস্তৃতির দিক থেকে এটি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়। এ ঝড়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ৩০ অঙ্গরাজ্যের ২০ কোটি মানুষ।
প্রশান্ত মহাসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর থেকে আসা দুটি আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ এই ঝড়কে শক্তিশালী করেছে। সেই সাথে রকি পর্বত অঞ্চল থেকে দক্ষিণমুখী শক্তিশালী তুষারযুক্ত বায়ুপ্রবাহে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পরিস্থিতি।
ডাকোটা এবং মিনেসোটায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে পর্যন্ত নেমে গেছে। এই কনকনে ঠান্ডায় বাইরে বের হওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি এবং হিমশীতল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিপজ্জনকভাবে ঠান্ডা তাপমাত্রা বয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
বৈরি আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ১ লাখ মানুষ। দুই দিনে বাতিল করা হয়েছে ১৩ হাজার ফ্লাইট। শনিবার বাতিল করা হয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার অনুসারে রোববারের জন্য নির্ধারিত ৯ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সোমবারও ফ্লাইট বিপর্যয় অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
আমেরিকার পাশাপাশি তীব্র শীতের কবলে কানাডাবাসী। ভারী তুষারপাত এবং তীব্র তুষারঝড়ে নাকাল দেশটির মানুষ। শীতের তীব্রতা সব থেকে বেশি অনুভূত হচ্ছে কানাডার দক্ষিণাঞ্চলে।
শীতকালীন ঝড় এবং তুষারপাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে টরোন্টো এবং অন্টারিওর দক্ষিণাঞ্চলে। রোববার ২০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার তুষার জমার পূর্বাভাস রয়েছে। কানাডার আবহাওয়া অফিস বলছে, অনেক এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে হিমাঙ্কের ৪৫ ডিগ্রি নিচে।



