দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭টি দেশে সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই তালিকায় রয়েছে ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইরাক, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও নাইজেরিয়া। এছাড়া ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন তিনি।
পাশাপাশি ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত বন্ধ করতেও তৎপরতা দেখিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও সেটা পরাশক্তি রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান জোরদার করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা।
সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানো হয়েছে ইরানে। গত বছরের ১৩ জুন ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ায় ইসরায়েল। তারই ধারাবাহিকতায় ইরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিনের এই সংঘাতে ৬শ'র বেশি ইরানি নিহত হয়। এর ঠিক ৮ মাস পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
আজ চতুর্থ দিনেও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে তাঁরা। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ১৭৬ শিশুসহ দেশটিতে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ১৫৩টি শহরে ৫শ'র বেশি জায়গায় ১ হাজার ৩ শতের বেশি হামলা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এ অভিযানে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৮৬ জন নিহত হন।
গত সেপ্টেম্বর থেকে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানে অন্তত ৪৫টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেড়শতাধিক নিহত হয়েছেন।
আফ্রিকার নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কথিত আইএস'র সহযোগীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
আরেক আফ্রিকান দেশ সোমালিয়াতেও আল-শাবাবসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশটিতে ১১১টি মার্কিন হামলা চালানো হয়, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ ও বাইডেন প্রশাসনের সম্মিলিত মোট হামলার চেয়েও বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেনে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে হুতিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক নৌ ও বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাস ইসা তেল বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় নিহত হন ৮০ জনের বেশি। পরবর্তীতে মে মাসে ওমানের মধ্যস্থতায় মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ২ মার্কিন সেনা নিহতের জেরে সিরিয়ায় আইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া মার্চে মার্কিন হামলায় ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে আইএস'র দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত হয়।



