যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের হুংকার ছিল—‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মাত্র ২০ দিন পরই বদলে গেল সেই সুর! ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি—যে আমেরিকা শুরুতে আত্মসমর্পণ চেয়েছিল, সেই আমেরিকাই পরে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের বার্তা ছিল “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”। পরে আমেরিকাই আলোচনার জন্য মিনতি করছিল।’
তাহলে কি যুদ্ধের ময়দানে হিসাবটা উল্টে গেছে? তেহরানের দাবি—আমেরিকা একা ছিল না। পাশে ছিল ইসরায়েল, পশ্চিমা দেশগুলো ও আরও কয়েকটি মিত্ররাষ্ট্র। তারপরও ইরান ভেঙে পড়েনি। আরাঘচির ভাষ্য, বিশ্বকে ইরান দেখিয়ে দিয়েছে—সামরিক চাপের মুখেও তারা টিকে থাকতে পারে।
এবার সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক ইস্যু—হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্পের দাবি—মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ থেকে মাইন সরিয়ে ফেলেছে এবং এখন জলপথটির ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ তাদের হাতে। এমনকি ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি এখন উন্মুক্ত’। কিন্তু ইরানের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেহরানের দাবি—হরমুজে নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান। ইরান বলছে, সামরিক চাপ বন্ধ না হলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে এখানেই আসছে নতুন মোড়।
এদিকে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে আরও বিস্তৃত অঞ্চলে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী সামরিক গোষ্ঠীগুলোর হামলায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিহত হয়েছেন চারজন ক্রু সদস্য ও ইয়েমেনের সরকারপন্থী রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দুজন সদস্য। ইরাকের এরবিলের কাছে ইরানি কুর্দি বিরোধীদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরেও রকেট হামলার খবর এসেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলাও থামেনি। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর এসেছে একাধিক এলাকা থেকে।
যুদ্ধের শুরুতে হুংকার দিয়েছিল আমেরিকা, শর্ত দিয়েছিল আত্মসমর্পণের; কিন্তু নত হয়নি ইরান। বরং আরাঘচির ভাষ্য, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানেই পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে আলোচনার পথ খুঁজতে হয়েছে ওয়াশিংটনকেই। হরমুজও এখন ইরানের হাতে বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার। ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, ওমান-ইরান আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে। অর্থাৎ যুদ্ধের আগুনের মধ্যেই চলছে কূটনীতির হিসাব। আর এই হিসাবেই কি ইরান নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে?
এদিকে ট্রাম্প বলছেন, হরমুজের ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ এখন আমেরিকার হাতে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি সত্যিই সব নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে থাকে, তাহলে আলোচনার প্রয়োজন কেন? কেনই বা যুদ্ধের শুরুতে ‘আত্মসমর্পণ’ চাওয়া পক্ষকে এখন আলোচনার টেবিলে বসার হিসাব করতে হচ্ছে? তাহলে কি যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষমতার পালাবদলে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে? উত্তরটা মিলবে পরবর্তী পদক্ষেপে, যা ঠিক করে দেবে—শেষ পর্যন্ত কে শর্ত দেবে, আর কে শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে বসবে। সেটিরই অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।



