ভারত-চীন সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে সেই বার্তাই আসছে। এবার জানা গেল, চীন আশ্বাস দিয়েছে তারা ভারতে সার, বিরল খনিজ এবং টানেল খনন যন্ত্রের সরবরাহ পুনরায় শুরু করবে। ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, ২০২০ সালে সীমান্তে সংঘাতের পর থেকে ভারত ও চীনের মধ্যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক। কিন্তু মার্কিন শুল্কারোপের পর সেই সম্পর্ক অনেকটাই নমনীয় হয়েছে।
সীমান্ত ইস্যুতে ২৪তম বারের মতো বৈঠক করতে ভারতে রয়েছে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এরই মধ্যে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। আজই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা। এরপর এ মাসেই মোদি যাচ্ছেন চীনে।
আজ বৈঠকের শুরুতেই অজিত দোভাল ওয়াং ইকে বলেন, ‘সম্পর্কে এখন একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত অনেক শান্ত। শান্তি ও প্রশান্তি বিরাজ করছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। নতুন পরিস্থিতি আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।’
এর আগেই ভারত সরকারের এক সূত্রের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানতে পারে, ভারতের তিনটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে চীন। ওয়াং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে বলেছেন, ভারতের সার, বিরল খনিজ ও টানেল খননের যন্ত্রের চাহিদাকে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। এর মাধ্যমে এসব জিনিস চীন থেকে ভারতে সরবরাহের একটি বার্তা পাওয়া গেল।
এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র ও খনিজ মন্ত্রণালয় ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল রয়টার্স। কিন্তু কারও পক্ষ থেকেই কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চীন আসলেই এসব পণ্য ভারতে সরবরাহ করবে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এটি কৌশলগত অবস্থানও হতে পারে।
গত জুনে চীনের বিরল খনিজ ও এ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বড় লাফ দেখা গেছে। এ ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশ এখন তাদের কাছ থেকে এসব পণ্য নিতে চায়।
এদিকে, ভারতে বিরল খনিজের যে মজুত রয়েছে, তা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। এর পরিমাণ ৬.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে কোনো উত্তোলন হয় না এবং মূলত চীন থেকে আমদানি করা উপাদানের ওপর নির্ভর করে তারা।


বিরল খনিজ আসলে কী, ট্রাম্পের এত আগ্রহ কেন
