মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি এলাকা পুনঃনিয়ন্ত্রণে নিয়েছে জান্তা বাহিনী। তবে আগামীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোই দেশটি শাসন করবে বলে দাবি করেছে রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি। মিয়ানমারে গত ৯ মাসে জান্তা বাহিনীর ২ হাজারের বেশি সদস্য স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে, বন্দী হয়েছে বা বিদ্রোহীদের দলে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে পরাজিত সেনাদের একটি সংগঠন।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে বিভিন্ন এলাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জান্তা বাহিনী। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্রোহী প্রতিরোধ যোদ্ধারা জান্তার বেশ কয়েকটি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে নতুন করে হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি অঞ্চল পুনঃনিয়ন্ত্রণে নিয়েছে জান্তা সেনারা।
মিয়ানমারে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে, জোরপূর্বক দেশটির তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে জান্তা সরকার। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের লড়াইরত রাজ্যগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। তবে বর্তমানের বিদ্রোহীরাই আগামীতে দেশটি শাসন করবে বলে দাবি করেছে রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
মিয়ানমারের পরাজিত সেনাদের সংগঠন ‘পিপলস গোল’ জানায়, এবছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেনাদের মধ্যে ৮৮০ জন দলত্যাগ করেছে, ১৩৫ জন আত্মসমর্পণ করেছে এবং ৯১৬ জন বন্দী হয়েছে। পুলিশের মধ্যে ২৮ জন দলত্যাগ ও ১৬ জন আটক হয়েছে। নব নিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫৬ জন দলত্যাগ করেছে এবং ৯৯ জন বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়েছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে কাচিন রাজ্যের ভামো এবং ওয়াইংমো টাউনশিপে জান্তার বেশ কয়েকটি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি। জান্তাকে পরাজিত করে গত ডিসেম্বর থেকে এপর্যন্ত রাজ্যটির একটি জেলা রাজধানী, ৫টি টাউনশিপ, ২টি উপশহর এবং ৫টি শহর দখলে নিয়েছে তারা।



