বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এখন আলোচনায় ত্রিভুজ কূটনীতি। একদিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্যদিকে রাশিয়া-চীনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এসব আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে ট্রাম্প ও পুতিনের চীন সফর।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকেই এগোচ্ছে বিশ্ব। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতিতে ত্রিভুজ কূটনীতির এক চিত্র ফুটে উঠেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ত্রিভুজ কূটনীতি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং এর পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও বেইজিং সফরের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকেরা এই তিন শক্তির সম্পর্ককে এক ফ্রেমে দেখছেন।
বাস্তবে এই ঘটনাগুলো কাকতালীয় হলেও রাশিয়া ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক এখন নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যা ক্রমশ প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নেই অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি। বরং তাঁদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রূপ নিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
চীনের অর্থনৈতিক শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব- এই দুইয়ের টানাপোড়েন ভবিষ্যত সম্পর্ককে অনিশ্চিত করে তুলছে। তবে কেউই বড় ধরনের ভাঙন চায় না, কারণ এর অর্থনৈতিক ফল হবে ভয়াবহ।
এর বিপরীতে রাশিয়া ও চীন নিজেদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং ইউরেশিয়ার কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে। তাদের এই সম্পর্ক রাজনীতি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং সামরিক সমন্বয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে যদিওবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বা আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে মতভেদ থাকে, তা সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তিকে কখনোই হুমকির মুখে ফেলে না। এ কারণেই মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক।
আজকের এই অস্থির বিশ্বে এই স্থিতিশীলতাই রাশিয়া-চীন অংশীদারিত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে।



