ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৬ বছর বয়সী জেনারেশন জেডের (জেন-জি) এর মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইউগভ ও টিইউআইয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি জরিপে এমনটি দেখা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, জরিপটি ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাসে পরিচালিত হয়। ইউরোপের সাতটি দেশের (যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ড) ১৬-২৬ বছর বয়সী ৬ হাজার ৭ শ জনের বেশি তরুণ এই জরিপে অংশগ্রহণ করেন।
জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্স ও স্পেনের তরুণদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক বিশ্বাস করেন যে গণতন্ত্রই শ্রেষ্ঠ সরকারব্যবস্থা, এবং পোল্যান্ডে এই সংখ্যা আরও কম। ইউরোপের জেনারেশন জেড (জেন-জি) তরুণদের মধ্যে মাত্র ৫৭ শতাংশ গণতন্ত্রকে অন্য যে কোনো সরকারব্যবস্থার চেয়ে ভালো বলে মনে করেন। এই হার দেশে দেশে ভিন্ন; পোল্যান্ডে মাত্র ৪৮ শতাংশ, ফ্রান্স ও স্পেনে ৫১-৫২ শতাংশ, আর সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে–৭১ শতাংশ।
তবে প্রতি পাঁচজনের একজন অর্থাৎ ২১ শতাংশ তরুণ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পছন্দ করেন। এই হার ইতালিতে সবচেয়ে বেশি ২৪ শতাংশ, জার্মানিতে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ। ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ডে এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ।
প্রায় প্রতি দশ জনে ১ জন বলেছেন, তাঁদের গণতান্ত্রিক সরকার হোক বা না হোক, তাতে কিছু যায় আসে না।
বার্লিনের ফ্রি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী থরস্টেন ফাস বলেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিকভাবে ডানদিকে মনে করেন এবং আর্থিকভাবে বঞ্চিত বোধ করেন, তাদের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন মাত্র এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। গণতন্ত্র ভেতর এবং বাইরে–দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছে।
জার্মানির অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের সমর্থনে চরম ডানপন্থার উত্থান দেখা দেওয়ায় সেখানে ৬১ শতাংশ তরুণ মনে করেন তাদের দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। সামগ্রিকভাবে ৪৮ শতাংশ ইউরোপীয় তরুণ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন, চীনের উত্থান এবং রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রিক আগ্রাসন – এসব কারণে ইউরোপের ভূরাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পেয়েছে বলে তরুণদের অনেকেই মনে করেন। মাত্র ৪২ শতাংশ তরুণ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিশ্বের শীর্ষ তিন শক্তির একটি মনে করেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৮৩ শতাংশ, চীনকে ৭৫ শতাংশ এবং রাশিয়াকে ৫৮ শতাংশ ইউরোপীয় তরুণ প্রধান শক্তি হিসেবে দেখেন।
এ ছাড়া ইউরোপের তরুণদের মধ্যে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে–২০২১ সালে যেখানে ২৬ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।



