ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি গবেষণা বিনিময়সংক্রান্ত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করেছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিই তা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০৬ সালে ইসরায়েল অনুমোদিত এই চুক্তিটি প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়। এতে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সদস্যদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেলোনির ডানপন্থী সরকার ইউরোপে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একটি হলেও, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে।
মঙ্গলবারের এই ঘোষণার পর ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা
গত এক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। লেবাননে ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের একটি বহরে ইসরায়েলি বাহিনী হুঁশিয়ারির উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়েছে — এমন অভিযোগ তোলে ইতালি। এই ঘটনায় অন্তত একটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কেউ হতাহত হয়নি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতালি ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
এরপর গতকাল সোমবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং এই হামলার নিন্দা জানান। এর জেরে ইসরায়েলও ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
তায়ানি সোমবার বৈরুতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জির সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ইসরায়েলের অগ্রহণযোগ্য হামলার পর লেবাননের জনগণের প্রতি ইতালির সংহতি জানাতে আমি এখানে এসেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এরপর আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির নবায়ন স্থগিত করা বোঝাচ্ছে, তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ডানপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন। তিনি নিজেকে ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আগেই কিছুটা টানাপোড়েনে ছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইতালির সম্পর্কও ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জ্বালানি আমদানিনির্ভর ইতালি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটি এই যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে।
রোববার পোপ লিও ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনাও বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। সোমবার প্রথমে পোপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া দিলেও, একই দিনে পরে এক অনুষ্ঠানে মেলোনি আরও স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য।’



