স্মরণকালের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দেশের তিন লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তীব্র বাতাস ও অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও প্রবল বাতাসের শিকার শীতপ্রধান মহাদেশ ইউরোপ। এতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে দাবানল। কয়েক দিন ধরেই পুড়ছে ফ্রান্স ও স্পেন।
ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৩০টি স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটি। তবে বৈরী আবহাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। দাবানলে ফ্রান্সে পুড়ে গেছে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমি। ফ্রান্স সবকিছু পুনর্নির্মাণ করবে এবং যতদিন প্রয়োজন সরকার জনগণের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল রঁদ্রিগেস ম্যাখোঁ।
ফ্রান্সের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এসেছি। কারণ, এখানকার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আমরা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখছি। কিছুই যেন করার নেই।’
এদিকে সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে স্বীকার করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। রাজধানী মাদ্রিদে ছড়িয়ে পড়া দাবানলকে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর দাবানলে দেশটিতে এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।
আরেকজন নারী বলেন, ‘আমি আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখলাম। আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর প্রস্তুত হওয়ার এবং মূল্যবান বা সবচেয়ে জরুরি জিনিসপত্র সঙ্গে নেয়ার বার্তা পেলাম।’
এদিকে ইতালির সিসিলি দ্বীপে ৩৫০টিরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০টি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগার্মস ন্যাশনাল পার্কে ১০ দিন ধরে চলা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইইউর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার হাদজা লাহবিব বলছেন, ইউরোপে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



