সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই অশান্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গ। এখন পর্যন্ত নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে এ রাজ্যে।
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে। একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছেন শুভেন্দু। আর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) দ্বারা তদন্তের দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
গত ৪ মে প্রকাশিত ২৯৩ আসনের ফলাফলে দেখা যায়, রাজ্যের বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
তবে ফলাফল প্রত্যাখান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অন্তত ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ‘ভিলেন’ বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। ফল প্রকাশের পর রাত থেকেই রাজ্যজুড়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ভাঙচুর, সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।
তবে বুধবার রাতে রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যার ঘটনা রাজ্যজুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
জানা যায়, মোটরসাইকেল নিয়ে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পিছু নেয় হামলাকারীরা। এরপর গাড়ি থামিয়ে তাকে খুব কাছ থেকে অন্তত চার রাউন্ড গুলি করা হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজ ও লাইভ রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে, যার নম্বর প্লেট ভুয়া ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেই সাথে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে। পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি না করে স্বচ্ছ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছে দলটি।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যজুড়ে তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বহু প্রার্থীর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিল থেকে বুলডোজার দিয়ে কয়েকটি দোকান ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বিজেপি বলছে, তাদের নাম ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চলছে এবং শুধু কলকাতাতেই অন্তত ৮০ জনসহ রাজ্যজুড়ে ২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



