মিশরের সঙ্গে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টেলিভিশনে দেওয়া বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস চুক্তি বলে উল্লেখ করেন।
চুক্তিতে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি শেভরন ও তাদের অংশীদার নিউমেড এবং রেশিও, যার মাধ্যমে মিশরে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আজ আমি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস চুক্তির অনুমোদন দিয়েছি। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ১১২ বিলিয়ন শেকেল (৩৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার)।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘কিছু অমীমাংসিত ইস্যুর কারণে চুক্তিটি কিছুদিন আটকে ছিল। তবে এই চুক্তি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আঞ্চলিক জ্বালানি ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবস্থানকে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে।’
শেভরনের এক মুখপাত্র বলেন, লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিশরে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির অনুমতির বিষয়ে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় কোম্পানিটি। গত নভেম্বরে শেভরন জানিয়েছিল, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের উপকূলের কাছে অবস্থিত লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র সম্প্রসারণে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের কাছাকাছি তারা পৌঁছেছে। তবে মিশরে গ্যাস রপ্তানির জন্য ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল।
এদিকে মিশর সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, এই ঘোষণা মূলত নেতানিয়াহু ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরির একটি প্রচেষ্টা। প্রায় এক দশক ধরে দুই দেশের নেতারা প্রকাশ্যে কোনো বৈঠকে বসেননি।
২০২২ সাল থেকে মিশরের গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করে। ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় দেশটি। ঘাটতি পূরণে ক্রমেই ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে কায়রো।



