পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, দু'পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে শুক্রবার ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা পৃথক একটি বৈঠকে অংশ নেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবু-সাইদি প্রথমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। পরে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। নিজেদের মতামত একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছে দু'পক্ষ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘গত জুনের (সামরিক সংঘাতের) পর গভীর অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে, যা একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রথমে এই অবিশ্বাসের পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে হবে। আজ ভালো আলোচনা হয়েছে, উভয়পক্ষের মতামত শোনা হয়েছে এবং সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে উভয়ে সম্মত হয়েছে।’
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যস্থতা করেছে ওমান। যথাসময়ে আবারও বৈঠকের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবশ্য বৈঠকের পরই ইরানের তেল বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৪টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তরে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী কয়েকদিন বা মাস পর্যন্ত এ সতর্কতা জারি থাকবে বলেও জানানো হয়।
একদিকে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি বিষয়ক আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। অন্যদিকে, একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। কিন্তু তা স্বত্বেও
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। তেহরান ও ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার ও তুরস্কও।
মোদ্দা কথা, মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট যেন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপড়েনেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সঙ্কট কতটা কাটবে তা বহুলাংশে নির্ভর করছে পরমাণু চুক্তি নিয়ে দেশ দুটির মাঝে চলমান আলোচনার কতটা ফলপ্রসূ হবে তার ওপর।



