ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাসকাটে প্রথম দফা আলোচনা শুরু হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। দুই দফায়ই দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইতিবাচক আলোচনা’র কথা জানিয়েছিল, তবে তার ফল – লবডঙ্কা।
আজ তৃতীয় দফার মতো পরোক্ষ আলোচনার জন্য জেনেভায় সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। সংঘাত এড়াতে এ আলোচনাকে শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এতে লাভ কী হবে? ঝামেলা তো সেই পুরোনোই – বিপরীতমুখী স্বার্থ নিয়ে আলোচনায় নামা দুই পক্ষের কেউই ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না।
এ দফায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ন্যায্য চুক্তি করা সম্ভব। তিনি জানান, ইরান কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকলেও দেশের শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করার অধিকার ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। আমরা উদ্বেগ দূর করতে প্রস্তুত, কিন্তু পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করতে প্রস্তুত নই। গত জুনে আমরা যখন আলোচনা করছিলাম, তখন ইসরায়েল আমাদের ওপর আক্রমণ করেছিল। পরে সেই আক্রমণে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই আগ্রাসনের ক্ষত এখনও আমাদের মনে জীবন্ত।’
একদিকে যখন এ পারমাণবিক চুক্তি না হলে কী হবে, সে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকি এবং ইরানের পাল্টা জবাব দেয়া মন্তব্য চলমান। আলোচনার সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক মোতায়েনও চলছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড়।



