মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ভর করছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেহরান সফল হলে, এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও তা অর্জনের চেষ্টা চালাবে। তবে, সেটিকে ইতিবাচক চোখেই দেখছে ইরান। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-র বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যার ওপর নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালালেও তা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়, সেদিকে জোর দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, পারমাণবিক শক্তির বিকাশ প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব, জ্বালানি বৈচিত্র্য এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা আইনি প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি জটিল। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে, পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
আরটি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতার পরও ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সফল হলে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করবে বা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালাবে।
যদিও ইরানের রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকর হলে, সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, তুর্কি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে স্বীকার করেছেন, তেহরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করলে, ক্ষমতার ভারসাম্যের এই রূপান্তর উপেক্ষা করতে পারবে না আঙ্কারা। এছাড়া, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পারমাণবিক শক্তির বিকাশ উৎসাহ জোগাচ্ছে এরদোয়ান প্রশাসনকে।



