ইরানকে ভাগ করে তেলের দখল নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এ প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য দিনের মতো পরিষ্কার। তাদের লক্ষ্য ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
এ প্রসঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার পর ইরানের তেল দখলে নিতে পারলে বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ তেল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দাবি, ইরানকে দুর্বল করে তেলের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে পারস্য উপসাগরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আর অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। সোমবার ইরানের কওম ও তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন সদর দপ্তরেও হামলার দাবি করেছে তেল আবিব।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানায় আইআরজিসি। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলা হয়েছে বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে। আবুধাবিতে শোনা যায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ।
বাহরাইন ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এদিকে তুরস্কে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের পর, তেহরানকে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
তবে তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। ইসমাইল বাঘাই বলেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
মধ্যপ্রাচ্যে হুমকিতে থাকা মিত্রদের রক্ষায় ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠাবে ফ্রান্স। সাইপ্রাস সফরে এ কথা জানান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। এদিকে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে মার্কিন বি-ফাইভটু বোমারু বিমান।



