মধ্যেপ্রাচ্য সংকট জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সংঘাত অচিরেই স্তিমিত হবে, এমন কোনো সম্ভাবনা চোখে পড়ছে না। গতকাল সোমবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার একাদশ দিনেও দু'পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানির খবর দিয়েছে আল জাজিরা। এছাড়া হামলা হয়েছে দেশটির খোমেইন শহরের একটি স্কুলেও।
ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে। গতকাল ইরানের একাধিক হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ৪ প্রতিবেশী দেশ- সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি আরব জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাতে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫টি ড্রোন আটতে দিতে সক্ষম হয়েছে তারা। পাশাপাশি ইরানের ৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতের সামরিক বাহিনী।
এদিকে, গতকাল রাতে এক হামলায় ২৯ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছে বাহরাইনের রাজধানী মানামায়। এরপর দেশটিতে সতর্কতা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের দিক থেকে আসা মিসাইল ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে দেশটি।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত আরও অভিযোগ করেছে যে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিলে তাঁদের দূতাবাসকে (কনস্যুলেট) লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থাপনার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।



