ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার দেশটির নৌ কমান্ডার আলিরেজা তানসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ-এর দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর- আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তানসিরি।
হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও অবরোধের মতো 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে' আলিরেজা তানসিরি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ইসরায়েল কাৎজ। আর এ কারণেই তানসিরিকে বিমান হামলায় 'উড়িয়ে' দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিমান হামলায় আলিরেজা তানসিরি ছাড়াও ইরানের নৌবাহিনীর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এর আগে বন্দর আব্বাসে এক হামলায় তানসিরি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়। তবে তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।
উল্লেখ্য, আলিরেজা তানসিরি ২০১৮ সাল থেকে আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে নৌবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার হিসেবেও ৮ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
নেতৃত্ব গুণাবলির দিক থেকে তানসিরি একজন স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবেন।
এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ১০ মার্চ থেকে আলিরেজা তানসিরির নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে। এই অ্যাকাউন্টে তানসিরি হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন, যেগুলোকে উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রচার করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো।
তানসিরি'র ওই অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, 'ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের এই (হরমুজ) প্রণালি দিয়ে যাওয়া-আসার অধিকার নেই।'
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইরান উপকূলে একটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার পর, আইআরজিসি'র অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডারদের পাশাপাশি তানসিরির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ।
ইরানের শীর্ষ নেতাদেরকে একের পর এক হত্যা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেদিনই যৌথ বাহিনীর হামলায় নিহন হন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।
এরপর গত ১৭ মার্চ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানিকেও হত্যা করে ইসরায়েল। সেদিনই নিহত হন ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি। তার পরদিন, অর্থাৎ ১৮ মার্চ, দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবও এক হামলায় নিহত হন। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারায় ইরান।
একের পর এক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হারালেও চলমান সংঘাতে ইরান এখন পর্যন্ত ইসরায়েল- যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ১৫টি শর্তযুক্ত একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে ইরানকে। তবে এই শর্তগুলো নাকচ করে দিয়ে ইরান ৫টি শর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই শর্ত বিনিময়ের প্রেক্ষাপটেই আজ ইসরায়েলের তরফ থেকে ইরানের নৌ কমান্ডারকে হত্যার দাবি সামনে এল। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল অংশ নিচ্ছে কিনা- এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।



