ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ক্রমাগত হামলায় দিশেহারা ইসরায়েল। প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা মোকাবিলার ফলে তেল আবিবের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় রেশনিং পদ্ধতি ব্যবহারের পথে হাঁটছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এই পদ্ধতিতে কেবল সেসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হবে, যেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি ইসরায়েল। তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও যুদ্ধে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বর্তমানে বিভিন্ন দিক থেকে হুমকির মুখে পড়েছে তেল আবিব। হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েলের গর্বের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমাগত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল প্রায়ই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর প্রধান কারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা।
এ অবস্থায় বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতি ব্যবহারের পথে হাঁটছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী এখন কেবল সেসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে, যেগুলোর সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে তাদের সবচেয়ে উন্নত অ্যারো এবং ডেভিডস স্লিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হয় কয়েক লাখ ডলার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ হওয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেছেন বলেও মত তাদের।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়াতে দিনরাত কাজ করছে। কিন্তু কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ সংকটে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি আর কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।



