বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে পরমাণু হামলার শঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পুরো বিশ্বে। এদিকে, পারমাণবিক ইস্যুকে ঘিরে এই অস্থিরতা এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও। পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন, উভয় পক্ষের পারমাণবিক স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামনে আসে।
২১ মার্চ ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় যৌথ হামলায় অবস্থা জটিল হয়। পাল্টা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কাছের ২টি শহরে আঘাত হানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ডিমোনা ও আরাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ডিমোনা এবং ইরানের বুশেহর ও আরাক পারমাণবিক কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এসব স্থাপনায় হামলা হলে তা শুধু সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সৃষ্টি করতে পারে ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়।
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আশঙ্কার মধ্যেই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মন্তব্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়ার আলোচনা চলছে। এই মন্তব্য ও তার পদত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসও দিচ্ছে ভয়াবহ সতর্কবার্তা। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলায় লাখো মানুষ প্রাণ হারায়। মানব ইতিহাসে সেটিই প্রথম এবং একমাত্র পারমাণবিক হামলার ঘটনা। যার প্রভাব আজও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্বকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত, এমনকি বৈশ্বিক যুদ্ধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তবে একটি উন্নত পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।



