ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ করোনা মহামারির সময়কার নীতিমালা গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়েই সরবরাহ করা হয় বিশ্বের ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। এশিয়ার জন্য এই পথটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কেননা জনবহুল এই মহাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড ওয়েল) আসে এই সমুদ্রপথ দিয়ে। ফলে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এশিয়ার অর্থনীতির ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার খবর আসছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এর মধ্যে রয়েছে, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অফিসের সময় কমানো, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং সর্বস্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান।
কেপলার-এর সিনিয়র ক্রুড অয়েল বিশ্লেষক নাভিন দাস বলেন, 'সাধারণ মানুষ কম তেল ব্যবহার করছে। কিছু দেশে সরকার বাধ্যতামূলকভাবে কাজের সময় কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং চলাচল সীমিত করার মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে, যাতে বিদ্যমান তেল মজুদ আরও দীর্ঘ সময় টিকে থাকে, যতক্ষণ না নতুন জ্বালানি আসে।'
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নির্ভরযোগ্য রপ্তানি পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জলপথে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার যোগাড়। জাতিসংঘ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এক মাসে জলপথে বাণিজ্য প্রায় ৯৫ শতাংশই বন্ধ হয়ে গেছে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু সরবরাহে নয়, পুরো বিশ্ব বাণিজ্য ও খরচের ওপরেও পড়ছে। ফ্রেইট খরচ বেড়েছে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে পরিবহন, গরম-ঠান্ডা, খাদ্য ও বিদ্যুৎ ব্যয় বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির প্রভাব পড়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশ্লেষক নাভিন দাস জানান, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগবে। যুদ্ধ আজ বা আগামীকাল শেষ হলেও, দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঠিক হবে। বাস্তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে নীতিমালা গ্রহণ এবং উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে জরুরি অর্থায়নের ক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।



