হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা থেকে নিখোঁজ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন। সেই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘাঁটির কার্যকারিতা এখন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।
হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা থেকে নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি হঠাৎ করেই জরুরি সতর্কসংকেত পাঠানোর পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি এটি, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কোনোভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘাঁটিগুলো এখন কৌশলগত সুবিধার চেয়ে বরং মার্কিন বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।
গত মাসে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান—এই ছয়টি দেশের ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বরং তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে সেখানে নৌবহর পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মোতায়েন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিকে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
যদিও পেন্টাগন এখনো এসব ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।



